পরীক্ষায় পাস করানো ও বিদেশে চাকরির কথা বলে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিত তাঁরা
বিদেশে চাকরি, ওয়ার্কিং ভিসা ও পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে একটি চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৪)। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং পাঁচজনকে অর্থদণ্ড দেন।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সাতজনকে সাত দিন থেকে তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন শরীয়তপুরের সুরুজ মিয়া; পটুয়াখালীর সবুজ; পাবনার শাহিন; সিরাজগঞ্জের সুজন ও শামীম; কিশোরগঞ্জের আবুল বাশার, দুর্জয় ও কাইয়ুম; ভোলার হারুন, রিয়াজ ও কামরুননাহার এবং রংপুরের রেজাউল করিম।
আজ দুপুরে রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিকেটিটিসি) ও বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) অভিযোগের ভিত্তিতে চক্রটির ওপর ছায়াতদন্ত চালানো হয়। সত্যতা পাওয়ার পর আজ সকালে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আইনের আওতায় আনা হয়।
যেভাবে প্রতারণা করত চক্রটি
এসআরবি জানায়, বিদেশ যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের স্বল্প খরচে কর্মী ভিসা ও লিখিত পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিত চক্রটি। এ জন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে ক্ষেত্রবিশেষে ৪০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো। পরে নানা অজুহাতে সেই টাকা আত্মসাৎ করত চক্রের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন বোয়েসেল সরকারিভাবে বিদেশে কর্মী নিয়োগ করে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া হয় না। কেবল পাসপোর্ট থাকলেই পরীক্ষার মাধ্যমে বিনা খরচে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ মেলে। প্রতি শুক্র ও শনিবার বিকেটিটিসি ভেন্যুতে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার জন্য জড়ো হওয়া প্রার্থীদের লক্ষ্য করেই মূলত দালাল চক্রটি সক্রিয় ছিল।
বিকেটিটিসি কর্মী পাঠায় না
লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, বিকেটিটিসি একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এখানে বিভিন্ন মেয়াদের মোট ২৪টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এসব সনদ বিদেশে চাকরির ক্ষেত্রে সহায়ক হলেও প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি কর্মী পাঠায় না বা চাকরির ব্যবস্থা করে না। ফলে প্রশিক্ষণ নেওয়া আর চাকরি পাওয়ার বিষয়টি এক নয়, এ সম্পর্কে প্রার্থীদের সচেতন থাকা জরুরি।
বিদেশে চাকরি কিংবা পরীক্ষায় উত্তীর্ণের নিশ্চয়তা দিয়ে কেউ অর্থ দাবি করলে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো লেনদেন না করার অনুরোধ জানিয়েছে এসআরবি। সংস্থাটি জানায়, প্রতারণা এড়াতে সরকারি দপ্তর ও অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে তথ্য যাচাই করতে হবে। কেউ এ ধরনের প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছে বাহিনীটি।