ফেসবুকে ঋণের বিজ্ঞাপন, জামানত নিয়ে ভুয়া ড্যাশবোর্ডে টাকা—সবই ছিল প্রতারণার ফাঁদ

ফেসবুকে আকর্ষণীয় ঋণের বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার ঘটনায় মেহেদী হাসান মাহিন নামের এই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশছবি: ডিবি পুলিশের সৌজন্যে

ফেসবুকে আকর্ষণীয় ডিজিটাল লোনের (ঋণ) বিজ্ঞাপন। ঋণ পেতে যোগাযোগ করার পর নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলতে বলা হতো। এরপর ঋণ অনুমোদনের শর্ত হিসেবে চাওয়া হতো কাঙ্ক্ষিত ঋণের ১০ শতাংশ টাকা। সেই টাকা পাঠানোর পর ভুক্তভোগীর সামনে হাজির করা হতো ঋণের টাকা ও জামানতের অর্থের হিসাব। কিন্তু সেই টাকা ছিল শুধু দেখানোর জন্য। বাস্তবে তা উত্তোলনের কোনো সুযোগই ছিল না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘গ্রামীন লোন’ প্ল্যাটফর্ম খুলে এভাবেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল একটি চক্র। চক্রটির এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ। গ্রেপ্তার ওই সদস্যের নাম মেহেদী হাসান মাহিন (১৯)।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় ডিজিটাল লোনের বিজ্ঞাপন প্রচার করত। লোনপ্রত্যাশীরা বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ করলে তাঁদের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলতে বলা হতো। এরপর লোন অনুমোদনের শর্ত হিসেবে কাঙ্ক্ষিত লোনের ১০ শতাংশ টাকা জামানত হিসেবে বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে পাঠাতে বলা হতো। একই সঙ্গে তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবিও সংগ্রহ করত চক্রটি।

জামানতের টাকা পাঠানোর পরই প্রতারণার আরেক ধাপ সামনে আসত। ভুক্তভোগীর জন্য তৈরি করা একটি ড্যাশবোর্ডে আবেদন করা লোনের পরিমাণ ও জামানতের টাকা ভার্চ্যুয়ালি দেখানো হতো। ফলে লোনের টাকা পাওয়া গেছে—এমন একটি হিসাব ভুক্তভোগীর সামনে থাকলেও বাস্তবে ওই অর্থ উত্তোলনের কোনো সুযোগ ছিল না।

ডিবি সূত্র বলছে, প্রতারণার কাজে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত অবৈধ সিম ব্যবহার করত চক্রটি। এ ঘটনায় রমনা মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়। ওই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল ভোর সাড়ে চারটার দিকে জামালপুরের সরিষাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় মেহেদীর হেফাজত থেকে একটি ল্যাপটপ, চারটি মুঠোফোন ও বিভিন্ন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত ৬১টি অবৈধ সিম কার্ড জব্দ করা হয়। আরও একটি বিষয় তদন্তকারীদের নজরে আসে—তাঁর ব্যবহৃত ডিভাইসে ‘গ্রামীন লোন’ নামের ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ড সক্রিয় লগইন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের কাছ থেকে এসব সামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ
ছবি: ডিবি পুলিশের সৌজন্যে

অনলাইন জুয়া চক্রের সাত সদস্য গ্রেপ্তার

আরেকটি আলাদা অভিযানে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি–সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ। তাঁদের মধ্যে গতকাল রাতে যশোরের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে ছয়জন এবং তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে মাদারীপুরের কালকিনি থেকে চক্রের মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন চক্রের মূল হোতা সাগর শিকদার (৩২), অমল কীর্তনিয়া (৩০), মিথুন সরকার (২৪), সুনীল মৃধা (২৫), কাজী উসরাত আঞ্জুমান (২০), মারুফা (২১) ও মো. রাকিবুল হাসান (৩২)।

ডিবি জানায়, সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার কয়েকটি ওয়েবসাইট ও অ্যাপ শনাক্ত করা হয়। এসব প্ল্যাটফর্মে জুয়ার লেনদেনে ব্যবহৃত বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) এজেন্ট, মার্চেন্ট ও ব্যক্তিগত হিসাবের তথ্য বিশ্লেষণ করে চক্রটির সন্ধান পাওয়া যায়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৪৮৪টি বিকাশ ও নগদ হিসাব-সংবলিত সিম কার্ড, ৪৬টি স্মার্টফোন, ৮টি ল্যাপটপ, ২৭টি ব্যাংক কার্ড, ৩টি ডায়েরি, ১টি বাটন ফোন ও ২টি ব্যক্তিগত গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।