মিটফোর্ডে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যা মামলায় আরও ৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ
রাজধানীর পুরান ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (মিটফোর্ড হাসপাতাল) সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯) হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আরও তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। তাঁরা হলেন ইসমাইল, বাবুল ও হাসান।
বৃহস্পতিবার ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আলমগীর হোসেনের আদালতে এ সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে আদালত ২৮ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী এ এস এম শাহাদাৎ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ৩ আগস্ট এই মামলার বাদী মঞ্জুয়ারা বেগমের সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে পাকা রাস্তার ওপর একদল লোক ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে পাথর দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে আঘাত করে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
ওই ঘটনায় পরদিন ১০ জুলাই নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর এই মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার (বর্তমানে শাহবাগ) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১০ আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্তকারী এই কর্মকর্তা।
তবে মামলাটিতে তদন্তে ত্রুটি থাকায় আবার তদন্ত করে অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।
চলতি বছরের ১০ মে তদন্ত করে আবারও ২১ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ। গত ১২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জ) করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত।
নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন মিটফোর্ড এলাকার রজনী ঘোষ লেনে ব্যবসা করে আসছিলেন।
মামলার আসামিরা হলেন মাহমুদ হাসান মহিন, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু ওরফে নান্নু কাজী, সজিব ওরফে সজিব বেপারী, টিটন গাজী, তারেক রহমান রবিন, জহিরুল ইসলাম, পারভেজ, সাগর, রিজওয়ান উদ্দিন ওরফে অভিজিৎ বসু ওরফে অভি, রুমান বেপারী, আবির হোসেন, জহির, ইমরান হোসেন, শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, হোসেন চৌকিদার, জিয়াউদ্দিন রাজিব, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির, অপু দাস। এদের মধ্যে ১০ জন কারাগারে ও আটজন পলাতক। তিন আসামি জামিনে রয়েছেন।
৩ আগস্ট নিহত সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ বর্ণনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তাঁর ভাই সোহাগকে হত্যা করা হয়। মাহিন, টিটু, লম্বা মনির, ছোট মনির, সজিব, রাজীব, রুমান বেপারী, আবির হোসেন, আলমগীর, অপু দাস, অভি, টিটন গাজী, রবিনসহ অনেকে সোহাগকে পিটিয়ে, ইট-পাথরের খণ্ড দিয়ে আঘাত করে। একপর্যায়ে সোহাগ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে কংক্রিটের বোল্ডার দিয়ে তাঁর মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়। এরপর সোহাগ মারা গেছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাঁর মরদেহের ওপর উঠে তারা উল্লাস করে।