বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন র‍্যাব-৩–এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা এক সময় নিজেরাই চাকরি পেতে টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন। পরে তাঁরাই প্রতারণার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, চক্রের প্রধান মাছুম বিল্লাহ নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিতেন। চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা আত্মসাৎ করতেন। পরে ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে তিনি মামলার ভয় দেখাতেন।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব জানায়, মাছুম বিল্লাহর অন্যতম সহযোগী খাইরুল ও কামরুজ্জামান আগে সিনথিয়া সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড নামের একটি নামসর্বস্ব কোম্পানিতে একইভাবে প্রতারণার কাজ করতেন। কোম্পানিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের পর তাঁরা মাছুম বিল্লাহর সঙ্গে যোগ দেন।

র‍্যাব আরও জানায়, খাইরুল অফিসে আসা চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রলোভন দেখিয়ে জামানতের টাকা আদায় করতেন। কামরুজ্জামান, রায়হান ও মাসুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে দেশব্যাপী আগ্রহী প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের সাক্ষাৎকারের জন্য অফিসে নিয়ে আসতেন। আর মাহমুদুল চাকরিপ্রত্যাশীদের ফরম পূরণ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্র জমা নিতেন।

default-image

সিকিউরিটি গার্ড, সহকারী সুপারভাইজার, সুপারভাইজার, সিকিউরিটি ইনচার্জ, মার্কেটিং অফিসার, অফিস সহকারী, লেডি গার্ড, অফিস রিসিপশনিস্ট পদের বিপরীতে উচ্চ বেতন দেওয়ার কথা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই চক্র বিজ্ঞাপন প্রচার করত বলে উল্লেখ করে র‍্যাব।

চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বিনা মূল্যে খাওয়ার সুব্যবস্থা, কর্মদক্ষতার ওপর পদোন্নতির মতো লোভনীয় প্রস্তাব দেওয়া হতো। চক্রের ফাঁদে পড়ে অসংখ্য বেকার তরুণ-তরুণী, স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। পরে সাক্ষাৎকারের জন্য চাকরিপ্রার্থীদের ডেকে ১২ হাজার টাকা করে জামানত হিসেবে নিতেন চক্রের সদস্যরা।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন