১১২১ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে ৩ মামলার অনুমোদন দুদকের

সালমান এফ রহমানফাইল ছবি
প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন

বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে ১ হাজার ১২১ কোটি ৪৯ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে তিনটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক জানিয়েছে, তিনি জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ ও রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) সুবিধা নিয়ে ভুয়া আমদানি ও রপ্তানি দেখিয়ে এই অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার করেছেন।

সালমান এফ রহমান ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা। তিন মামলায় সালমান এফ রহমানসহ ৩১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

দুদকের প্রধান কার্যালয় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আজ সোমবার ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দুদকের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। তিনি বলেন, স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে ঋণ ও ইডিএফ সুবিধা নিয়ে ১৪১ কোটি ২৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া আরবান ফ্যাশনস লিমিটেডের নামে ৪১৭ কোটি ৪ লাখ টাকা এবং মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস লিমিটেডের নামে ৫৬৩ কোটি ১৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন গঠিত হলেও সেগুলোর অনুকূলে ঋণ ও ইডিএফ সুবিধা অনুমোদন করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকদের ব্যবসার অভিজ্ঞতা ছিল না। পরে নিজেদের মধ্যে আমদানি ও রপ্তানির ভুয়া লেনদেন দেখিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ নেওয়া হয়। এভাবে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করে তা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

প্রথম মামলায় স্প্রিংফুল অ্যাপারেলসের নামে ১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৫৮২ মার্কিন ডলারের বিল তৈরি করা হয়। এর বিপরীতে দেশে আসে মাত্র ৪ লাখ ৪০ হাজার ৩৯২ ডলার। বাকি ১ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ১৯০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪১ কোটি ২৮ লাখ টাকার বেশি) আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ এনেছে দুদক।

দ্বিতীয় মামলায় আরবান ফ্যাশনসের নামে ৪ কোটি ৯০ লাখ ৬৩ হাজার ৫৭৭ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪১৭ কোটি ৪ লাখ টাকা) নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। নিজেদের মধ্যে ভুয়া বাণিজ্য দেখিয়ে এ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। পরে নগদ উত্তোলনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়।

তৃতীয় মামলায় মিডওয়েস্ট গার্মেন্টসের নামে ৬ কোটি ৬২ লাখ ৫৫ হাজার ২৮৮ ডলার নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ২৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার দেশে ফেরত আসেনি। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে ভুয়া আমদানি ও রপ্তানি দেখিয়ে ৫৬৩ কোটি ১৬ লাখ ৯৯ হাজার আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

আসামির তালিকায় বেক্সিমকো ও জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তারা

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি মামলায় এজাহারভুক্ত মোট আসামির সংখ্যা ৬৯ হলেও একই ব্যক্তি একাধিক মামলায় থাকায় আসামির সংখ্যা মূলত ৩১। এর মধ্যে ১৩ জন আসামি তিনটি মামলাতেই আছেন।

মামলাগুলোতে সালমান এফ রহমান ছাড়াও তাঁর ছেলে এ এস এফ রহমান, বেক্সিমকো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কে চৌধুরীকে আসামি করা হয়েছে। আসামির তালিকায় নাম আছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইকবাল আহমেদ, এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক ও রীম এইচ শামসুদ্দোহারও।

এ ছাড়া ক্রিসেন্ট অ্যাকসেসরিজ লিমিটেডের এমডি আবু নাঈম মাহমুদ সালেহিন ও পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান এবং আরআর গ্লোবাল ট্রেডিং এফজেডইর স্বত্বাধিকারী আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও আহমেদ শাহরিয়ার রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস ও মিডওয়েস্ট গার্মেন্টসের এমডি মোহাইমিনুল ইসলাম ও পরিচালক কোহিনুর আবেদিন এবং আরবান ফ্যাশনসের এমডি হেলাল উদ্দিন ও পরিচালক সাহিদা রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে সাবেক সিইও ও এমডি আবদুছ ছালাম আজাদ, সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমানসহ একাধিক কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। আসামির তালিকায় আরও আছেন সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল জব্বার ও ইসমাইল হোসেন, সাবেক মহাব্যবস্থাপক শহিদুল হক, অবসরপ্রাপ্ত উপমহাব্যবস্থাপক মমতাজুল ইসলাম ও মো. আবদুর রহিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা।

দুদকের অভিযোগে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার ও যোগসাজশের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজারে জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের বেশ কিছু অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে।