ল্যাবে তৈরি ভয়ংকর মাদক ‘কেটামিন’ শ্রীলঙ্কা পাচার করছিলেন চীনের কয়েকজন নাগরিক
অস্ত্রোপচারের আগে রোগীদের যে চেতনানাশক ওষুধ দেওয়া হয়, সেই কেটামিন ব্যবহার করে ভয়ংকর মাদক তৈরির সঙ্গে যুক্ত চীনের তিন নাগরিককে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। আজ বুধবার রাতে ঢাকার উত্তরার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার তিনজন হলেন ইয়াং চুংসেন, ইউ জি ও লি বিন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার চীনের নাগরিকেরা যে ফ্ল্যাটে বসবাস করেন, সেখানে একটি কক্ষকে ল্যাব বানিয়ে তরল কেটামিনকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পাউডারে পরিণত করেন। এরপর একটি আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে শ্রীলঙ্কায় কেটামিন পাচার করছিলেন। কেটামিন পাচারে তাঁরা স্পিকার ব্যবহার করছিল। স্পিকারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে কেটামিন ভরে সেটি পাচার করা হচ্ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একটি আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের ডিপো থেকে ৫০ গ্রাম কেটামিন উদ্ধার করা হয়। ওই কুরিয়ার সার্ভিসের ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ, পার্সেলে লেখা মুঠোফোন নম্বর এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চীনের তিন নাগরিককে শনাক্ত করা হয়।
মেহেদী হাসান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মাস্ক পরে কুরিয়ার করতে গিয়েছিলেন এবং তাঁদের ব্যবহৃত মুঠোফোন একবার ব্যবহারের পর বিক্রি করে দিচ্ছিল। এ জন্য তাঁদের শনাক্ত করতে বেগ পেতে হয়। তাঁদের কাছ থেকে মোট ৬ কেজি ৩০০ গ্রাম কেটামিন উদ্ধার করা হয়েছে।
এই চক্রের সদস্যরা তরল কেটামিনকে পাউডারে রূপান্তর করতে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র ও রাসায়নিক ব্যবহার করছিলেন উল্লেখ করে মেহেদী হাসান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সিরামিকের হিটারে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় তরল কেটামিনের সঙ্গে রাসায়নিক ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করছিল। তাঁরা মূলত ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে আসা–যাওয়া করেন। তাঁদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, কেটামিন সেবন করলে বাস্তব জ্ঞান লোপ পায়। অনেকটা কল্পনার জগতে চলে যান তিনি। দীর্ঘদিন এটা সেবনে স্মৃতিবিভ্রম, কিডনি বিকল হওয়াসহ নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে।