নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা-ভাঙচুর: আসামিদের ৩ জন কারাগারে, ৩ জন আবার রিমান্ডে

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের পর তছনছ হয়ে আছে স্টুডিওর বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আসবাব। রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে, ২৭ অক্টোবরছবি: তানভীর আহাম্মেদ

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ইসিবি চত্বরে নিউগিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে অবৈধভাবে ঢুকে ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় তিনজন আসামিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। একই মামলায় গ্রেপ্তার আরও তিন আসামিকে আবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার বিকেলে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইলের আদালত এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) তারেক রহমান প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এসআই তারেক রহমান বলেন, কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন মিজানুর রহমান, আসলাম ও শাহ আলম অনিক। আর রিমান্ডে যাওয়া তিন আসামি হলেন মামুন, মুন্না ও শাহরিয়ার মাহমুদ।

বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক জেহাদ হোসেন ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করেন। তিনি মিজানুর রহমান, আসলাম ও শাহ আলম অনিককে কারাগারে আটক রাখার জোর আবেদন করেন। আর মামুন, মুন্না ও শাহরিয়ার মাহমুদকে আবার সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট আটজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ মানিকদীর ইসিবি চত্বরে নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের প্রকল্প এলাকায় আনুমানিক ৫০ জন দুষ্কৃতকারী দল বেঁধে বেআইনিভাবে ঢোকে। এ সময় তারা এলোপাতাড়ি প্রায় ৫০টি গুলি ছোড়ে এবং রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে সাইট প্রকৌশলী মো. পারভেজসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

হামলাকারীরা প্রকল্প এলাকা থেকে টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, বিআরবি কেব্‌ল, ক্যামেরা ও পেশাদার মিডিয়া সরঞ্জামসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। তারা গাড়িও ভাঙচুর করে। এতে বাদী প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সময় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিশ’ নামের স্টুডিওতে অনধিকার প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।

খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে। তখন আত্মরক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শটগানের পাঁচটি গুলি ছোড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় প্রকল্পের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।