রাজধানীর তিন জায়গা থেকে খণ্ডিত হাত-পা উদ্ধারের ঘটনায় একজন আটক
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম, কমলাপুরসহ রাজধানীর তিন জায়গা থেকে মো. ওবায়দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির খণ্ডিত হাত, পা উদ্ধারের ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তির নাম শাহীন আলম (২১)। তিনি মতিঝিলের হীরাঝিল হোটেলের কর্মচারী।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের একজন কর্মকর্তা শনিবার রাতে তাঁকে আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, খণ্ডিত হাত–পা উদ্ধারের ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। শাহীন আলম নামের ওই ব্যক্তি মতিঝিলের হীরাঝিল হোটেলের কর্মচারী। পরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি ও সাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। শরীরের বাকি অংশ উদ্ধারের জন্য তাঁরা কাজ করছেন।
ঘটনা সম্পর্কে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে পল্টনের স্কাউট ভবনের পাশ থেকে এক ব্যক্তির পা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে শনিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব পাশ থেকে দুটি কাটা-হাত এবং দুপুরে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে আরও একটি পা উদ্ধার করে তারা। উদ্ধারের পর আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে জানা গেছে, দেহের খণ্ডিত অংশগুলো মো. ওবায়দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির। তাঁর বাড়ি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায়। তিনি পল্টনের গণস্বাস্থ্য হোমিও নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিপণন কর্মকর্তা।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির মরদেহের মাথাসহ শরীরের বাকি অঙ্গগুলো এখনো খুঁজে পায়নি তারা। সেই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ও হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ করছে।
এ বিষয়ে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে ওই ব্যক্তির পরিচিয় জানা গেছে। তবে উদ্ধার করা হাত ও পা একই ব্যক্তির কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে খণ্ডিত অংশগুলো একই ব্যক্তির বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হত্যার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা শরীরের বাকি অংশগুলো খুঁজছি। সেই সঙ্গে কী কারণে ও কারা এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে, সেটাও খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। এ জন্য ঘটনাস্থল (হাত-পা যেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে) ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে সেগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আশা করি, দ্রুতই জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পারব।’