স্বর্ণালংকার ছিনতাই: বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ দুজন গ্রেপ্তার

বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন শান্তছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন শান্ত ও বিমানবন্দর ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার রাত এবং আজ রোববার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে বিমানবন্দর থানা–পুলিশের একটি দল তাঁদেরকে গ্রেপ্তার করে। নরসিংদীর রায়পুর উপজেলার বাসিন্দা মো. সুমন নামের এক ব্যক্তির করা মামলায় তাঁদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মির্জা তারেক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বিদেশ থেকে পাঠানো এক প্রবাসীর ভাইয়ের কাছ থেকে এই সোনা ছিনতাই হয়। এ ঘটনায় মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সিসি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ১০০ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।

মির্জা তারেক আহমেদ প্রথম আলোকে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় আছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে যে দলের সঙ্গেই জড়িত থাকুক না কেন, ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁদেরকে অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

বিমানবন্দর থানা–পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৯ আগস্ট মো. সুমন নামের এক ব্যক্তি মামলাটি করেন। মামলায় বিমানবন্দর ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ, বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপন, সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন শান্ত ও বিমানবন্দর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুবেলকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে বাদী বলেন, তাঁর বড় ভাই কাউসার মালয়েশিয়াপ্রবাসী। ২৮ আগস্ট তিনি বোনের বিয়ে ও পরিবারের ব্যবহারের জন্য মালয়েশিয়া থেকে ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার পাঠান। পরবর্তী সময়ে তিনি ও তাঁর বন্ধু রোহান চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে ওই দিন রাত ৮টার দিকে বিমানবন্দর থেকে বড় ভাইয়ের পরিচিত লোকের কাছ থেকে তা গ্রহণ করেন। স্বর্ণালংকার নিয়ে ভাড়া করা মাইক্রোবাসে করে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের বলাকা ভবনের বিপরীত পাশে নামেন।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, মাইক্রোবাস থেকে নামতেই আসামিরা তাঁদের ঘিরে ধরেন। তাঁদেরকে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তাঁদের কাছে বোমা আছে উল্লেখ করে মারধর করে। একপর্যায়ে তাঁদের কাছে থাকা ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় লোকজন জড়ো হওয়া শুরু হলে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।