বাজুসের সভাপতি এনামুল ও তাঁর স্ত্রীর ১৭ একর জমি জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সভাপতি এনামুল হক খান ও তাঁর স্ত্রী শারমীন খানের ১৭ দশমিক ৬১ একর জমি জব্দ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া তাঁদের নামে থাকা ১২ হাজার শেয়ার, ২টি গাড়ি ও ১৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক দুই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ আজ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। সংস্থার উপসহকারী পরিচালক আবু মোহাম্মদ আনোয়ারুল মাসুদ আবেদন দুটি করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এনামুলের সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১৬ দশমিক ৫৮ একর জমি, ১১টি ব্যাংক হিসাব, ১২ হাজার শেয়ার ও ১টি গাড়ি। তাঁর স্ত্রীর সম্পদের মধ্য রয়েছে ১ দশমিক ৩ একর জমি, ৭টি ব্যাংক হিসাব ও ১টি গাড়ি।

এনামুল হকের বিরুদ্ধে করা আবেদনে বলা হয়েছে, এনামুল হক খান অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ২ কোটি ৪৭ লাখ ৬২ হাজার টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন। তিনি ১২টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৭২ কোটি ৩১ লাখ টাকা জমা, ৭২ কোটি ১৬ লাখ টাকা উত্তোলনসহ মোট ১৪৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তর করেছেন।

আয়ের উৎস আড়াল করায় এনামুল হক খানের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।

দুদকের অপর আবেদনে বলা হয়েছে, এনামুল হকের স্ত্রী শারমীন খান জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৭ কোটি ৩৭ লাখ ৮৭ হাজার টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন। তিনি ৭টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৫ কোটি ২২ লাখ ৯০ হাজার টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন। মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধ করায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।

দুটি আবেদনেই বলা হয়েছে, তদন্তের রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আসামি তাঁর নামে ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চলতি হিসাব, সঞ্চয়ী হিসাব, এফডিআরসহ অন্যান্য হিসাবের অর্থ এবং স্থাবর সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার প্রচেষ্টা করছেন। মামলা নিষ্পত্তির পূর্বে সম্পত্তি হস্তান্তর বা স্থানান্তর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে জন্য তাঁদের সম্পদগুলো জব্দ ও অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।