আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে অপহরণের অভিযোগ, উদ্ধার হলেন মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে

একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে ওয়াশিমকে উদ্ধার করে পুলিশপ্রতীকী ছবি

গত শনিবার ভোরে নিখোঁজ হন ওয়াশিম আহমেদ মুকছান। ওই দিনই তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার টুম্পা কদমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেখানে উল্লেখ করেন, শনিবার ভোর পাঁচটার দিকে কদমতলীর রাজাবাড়ি আলী বহর এলাকার ভাড়া বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে পাঁচ-ছয়জন ব্যক্তি ওয়াশিমকে তুলে নিয়ে যায়।

তবে তদন্তে নেমে মঙ্গলবার কদমতলীর মেরাজনগর এলাকার একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে ওয়াশিমকে উদ্ধার করে পুলিশ। নিশ্চিত হওয়া যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কোনো বাহিনী তাঁকে অপহরণ করেনি। বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জিডির পরপরই কদমতলী থানা–পুলিশ নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রাথমিকভাবে কেউ নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি। পরে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওয়াশিমকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ওয়াশিম ও তাঁর স্ত্রী আলাদা ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ওয়াশিম দীর্ঘদিন মাদকাসক্ত ছিলেন। ছোট ভাই রাকিব ওয়াশিমের স্ত্রীকে না জানিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের সম্মতিতে তাঁকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করান। ভোরে নিরাময় কেন্দ্রে মাদকাসক্তদের নেওয়া তুলনামূলক সহজ হওয়ায় ওই সময়টিই বেছে নেওয়া হয়েছিল।

তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। উদ্ধারের পর ওয়াশিম আহমেদ মুকছানকে পরিবারের অন্য সদস্যদের উপস্থিতিতে স্ত্রী শারমিন আক্তার টুম্পার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ জানায়, ওয়াশিমের স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের সম্পর্ক ভালো নয়। ওয়াশিমকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে নিতে গেলে তাঁর স্ত্রী বাধা দিতে পারেন, এমন শঙ্কা থেকে সেটি তাঁকে জানানো হয়নি।