ট্যুরিস্ট ভিসায় এসে ওষুধ পাচার করতেন চীনা নাগরিক, গ্রেপ্তার ৪
ক্যানসারসহ জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ বাংলাদেশ থেকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে অবৈধভাবে পাচার করা হচ্ছিল লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনামসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এভাবে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ওষুধ পাচারের অভিযোগে চীনা নাগরিকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৩।
এসআরবি-৩-এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর উত্তরা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহজাহানপুর এসআরবি-৩ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন চীনা নাগরিক লি ফেন (৩৪) ও তাঁর সহযোগী বকুল নাহার বীথি (২৪), ইউনুস আলী (২৬) ও সজীব হাওলাদার (২৮)। তাঁদের কাছ থেকে আনুমানিক সাড়ে সাত কোটি টাকা মূল্যের বাংলাদেশি ওষুধ ও ৬ লাখ ৬ হাজার ১৪০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-৩–এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, গ্রেপ্তার চীনা নাগরিক ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনামসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওষুধ পাচার করে আসছিলেন। বাংলাদেশে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া ওষুধগুলোই বিদেশে অবৈধভাবে পাঠানো হতো। এসব ওষুধের মধ্যে ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল ও দুরারোগ্য চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধও ছিল।
ফায়েজুল আরেফীন বলেন, গ্রেপ্তার চীনা নাগরিক লি ফেন ২০২৪ সালের আগস্টে ৩০ দিনের ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই-তিন দিন আগে তিনি চীনে ফিরে যেতেন। এরপর এক-দুই দিনের মধ্যে আবার ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে আসতেন। গ্রেপ্তার বকুল নাহার বীথি ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চীনের চায়না হুনান নরমাল ইউনিভার্সিটিতে ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। এ সময় তিনি চীনা ভাষা শেখেন। পরে বাংলাদেশে ফিরে বিভিন্ন চীনা নাগরিকের সঙ্গে দোভাষী হিসেবে কাজ করেন।
এসআরবির এই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির কিছু অসাধু কর্মচারী অধিক মুনাফার আশায় চক্রটির সঙ্গে যোগসাজশ করে ওষুধের অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার লাওসের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কুরিয়ারে পাঠানো ১০০ কেজি ওজনের একটি চালান বৈধ কাগজপত্র না থাকায় জব্দ করে।