১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে সৎবাবার মৃত্যুদণ্ড

আদালতপ্রতীকী ছবি

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় সৎবাবার (৪৩) মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গমেজ। তিনি বলেন, মামলার দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হলো। রায় ঘোষণার সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর সাজা পরোয়ানা দিয়ে আবার তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রায়ে আদালত বলেন, ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো। একই সঙ্গে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ ভিকটিম বা তাঁর আইনগত উত্তরাধিকারীকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, দোষী সাব্যস্ত আসামি ১৩ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ করেছেন। ধর্ষণ নারীর মর্যাদার বিরুদ্ধে সবচেয়ে ঘৃণ্য অপরাধ, যা কেবল তার সম্মানই ক্ষুণ্ন করে না; বরং তার আত্মাকেও আঘাত করে। শিশু ভিকটিমকে ধর্ষণের অমার্জনীয় অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও অপরাধের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা আদালতের দায়িত্ব। এ অপরাধ শুধু ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই নয়, যে সমাজের সে সদস্য, সেই সমাজের বিরুদ্ধেও সংঘটিত হয়েছে। সমাজের আর্তনাদে সাড়া দিয়ে একটি ঘৃণ্য অপরাধের জন্য যথাযথ শাস্তি নির্ধারণ করা আদালতের দায়িত্ব। আসামি একজন মানুষ হিসেবে শিশুটিকে ধর্ষণ করে একটি ঘৃণ্য অপরাধ করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামি ভুক্তভোগী কিশোরীর মায়ের দ্বিতীয় স্বামী। তাঁরা একই বাসায় থাকতেন। ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে আসামি শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। পরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে সন্তান জন্ম দেয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট কামরাঙ্গীরচর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি মামলাটির তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। একই বছরের ২৪ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলার বিচার চলার সময় মোট ৮ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রায় ঘোষণার তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন।