গুলিবিদ্ধ ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ পলাশের মৃত্যু

শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান ওরফে পলাশছবি: সংগৃহীত

কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার এক মাসের মধ্যে হামলার শিকার হয়েছিলেন ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ইয়াছিন খান পলাশ। তাতে গুলিবিদ্ধ হওয়ার এক সপ্তাহ পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন তিনি।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে পলাশের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান।

পুলিশের একসময় করা শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় নাম থাকা পলাশ (৫০) অপরাধজগতে ‘কাইল্যা পলাশ’ নামে পরিচিত ছিলেন। হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত পলাশ এক মাস আগে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন।

১২ জুন বেলা পৌনে ২টার দিকে রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনের উল্টো দিকে নিজের বাসার কাছে গুলিবিদ্ধ হন পলাশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তাঁর মাথায় দুটি গুলি লাগে।

গুরুতর অবস্থায় পলাশকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে দুই দিন চিকিৎসার পর গত রোববার রাতে তাঁকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে।

গুলির ঘটনায় পলাশের স্ত্রী মাহমুদা খানম হাতিরঝিল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। তাতে জিসান আহমেদ মন্টি নামে একজনকে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ উল্লেখ করে প্রধান আসামি করা হয়।

এ ছাড়া বাদশা ওরফে গুজা বাদশা (৪৮), গলদা বাদশা (৪৫), শান্ত ওরফে পিচ্চি শান্ত (২৮), সোলাইমান খন্দকার (৪৫), ফারুক ওরফে চাচা ফারুক (৩৫), হেবেল (৩৫), মোল্লা জনি (৪২), ফিরোজ মোহাম্মদ মোল্লা (৪৫), পিচ্চি আলামিন ওরফে তোতলা আলামিন এবং সজীবের (৩৫) নাম এজাহারে আসামির তালিকায় রয়েছে।

এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে ইমাম হোসেনকে বাড্ডা ও মারুফ সুলতানকে হাতিরঝিল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন

ওসি আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার দুজনের নাম এজাহারে নেই। তবে দুজনই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। যেই মোটরসাইকেলে করে এসে গুলি করা হয়েছে, ইমাম হোসেন সেটির চালক ছিলেন। আর মারুফ সুলতান ওই এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছিলেন।

যুবদল নেতা মিজানুর রহমান মিজান হত্যা মামলায় দণ্ডিত ছিলেন ইয়াছিন খান পলাশ। ২০০২ সালের ২৯ মে রামপুরায় মিজানকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এ মামলায় বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন পলাশকে। পরে উচ্চ আদালত তাঁর সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এই মামলায় এক মাস আগে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান পলাশ।

আরও পড়ুন