ছিনতাইয়ের পর সবজি ব্যবসায়ীকে খুন, ১৫ বছর পর দুজনের যাবজ্জীবন

মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকাফাইল ছবি: প্রথম আলো

রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় চুন্নু মিয়া নামের একজন সবজি ব্যবসায়ীকে ছিনতাইয়ের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ১৫ বছর পর দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুজনকে আরও পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন বাবু ওরফে বাঘা বাবু ও মামুন। দুজনই পলাতক। এ মামলায় সজীব নামে আরেকজন আসামি ছিলেন। তিনি মারা গেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার নবম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সরকার এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাঁদের আরও ছয় মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ ছাড়া ছিনতাইয়ে জড়িত থাকায় প্রত্যেককে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে; অনাদায়ে আরও তিন মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এই আইনজীবী আরও বলেন, আসামিরা পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রাজধানীর শ্যামবাজারে সবজির ব্যবসা করতেন চুন্নু মিয়া। ২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারে মালামাল কিনতে যান তিনি। ভোরের দিকে রিকশায় শ্যামবাজারে ফেরার পথে গেন্ডারিয়া কাঠেরপুলে পৌঁছালে আসামিরা তাঁর রিকশার গতিরোধ করেন। এ সময় চুন্নুর কাছে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। চিনে ফেলায় তাঁরা চুন্নুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। এতে চুন্নুর মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরদিন নিহত চুন্নুর শ্যালক জাহাঙ্গীর হোসেন গেন্ডারিয়া থানায় ছিনতাইয়ের পর হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। তদন্ত শেষে গেন্ডারিয়া থানার এসআই মনিরুজ্জামান ২০১১ সালের ১৪ জুন সজীব, মামুন ও বাবুর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

ওই বছরের ৭ আগস্ট আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। বিচার চলাকালে ১৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আসামি সজীব মারা যাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম স্থগিত হয়েছে।

আত্মপক্ষ সমর্থন ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আজ আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করেন।