তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, ২৪ ঘণ্টায় হত্যা রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি পিবিআইয়ের

গ্রেপ্তার আল–আমিনছবি: পিবিআইয়ের সৌজন্যে

ঢাকার আশুলিয়ায় একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে পচন ধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি বলছে, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে বন্ধুকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন আল–আমিন গতকাল মঙ্গলবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এর আগে ১৬ আগস্ট আশুলিয়ার বাসাইদ এলাকায় রাজু সিটির সামনে একটি বাড়ির তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে বাড়ির মালিক তাহেরুন্নেসা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে ওই কক্ষের দরজা ভেঙে এক ব্যক্তির পচন ধরা গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে।

শুরুতে পরিচয় না পাওয়া গেলেও পিবিআই ঢাকা জেলার ক্রাইমসিন দল ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত ব্যক্তির নাম মো. কামরুল খান (৪৪)। তাঁর বাড়ি খুলনার তেরখাদা উপজেলার নয়াবরসাত এলাকায়।

এ ঘটনায় ১৭ আগস্ট নিহত কামরুলের মামাতো ভাই জামিল শেখ আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করলে তদন্তভার নেয় পিবিআই ঢাকা জেলা। মামলার তদন্ত করেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. জামাল উদ্দীন।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে

তদন্তে প্রযুক্তি সহায়তার পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগিয়ে পিবিআই জানতে পারে, নিহত কামরুলের সঙ্গে তাঁর এলাকারই পরিচিত আল–আমিনের যোগাযোগ ছিল। এরপর পিবিআই খুলনার সহায়তায় ১৭ আগস্ট খুলনার তেরখাদা থেকে আল–আমিনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই ঢাকা জেলা। এ সময় তাঁর কাছ থেকে নিহত কামরুলের মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়।

পিবিআইয়ের ভাষ্য, আল–আমিনের কাছ থেকে কামরুলের মুঠোফোন উদ্ধারের পর তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়ার ওই কক্ষের বাথরুমের প্যানের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় একটি ছুরি। ওই ছুরি দিয়েই কামরুলকে হত্যা করা হয়েছিল।

পিবিআই জানায়, কামরুল ও আল–আমিন ছোটবেলা থেকেই পরিচিত। ৮ আগস্ট রাজমিস্ত্রির কাজের খোঁজে তাঁরা খুলনা থেকে আশুলিয়ায় আসেন এবং ওই কক্ষ ভাড়া নেন। ১৪ আগস্ট রাতে টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় আল–আমিন কামরুলের কাছে টাকা চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কামরুল একটি সবজি কাটার ছুরি নিয়ে আল–আমিনকে আঘাত করতে গেলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় আল–আমিন ছুরিটি কেড়ে নিয়ে কামরুলের গলায় আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই কামরুলের মৃত্যু হয়।

হত্যার পর মরদেহ ঘরের ভেতর রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে আল–আমিন খুলনায় পালিয়ে যান। আলামত গোপন করতে তিনি সবজি কাটার ছুরিটি বাথরুমের প্যানের ভেতর ফেলে দিয়েছিলেন বলে পিবিআই জানায়।

এদিকে কক্ষ ভাড়া দেওয়ার সময় বাড়ির মালিক ভাড়াটেদের কোনো পরিচয়পত্র বা মুঠোফোন নম্বর সংরক্ষণ করেননি। ফলে মরদেহ উদ্ধারের পর শুরুতে নিহত ব্যক্তি বা সম্ভাব্য হত্যাকারী সম্পর্কে কোনো তথ্যই পুলিশের হাতে ছিল না। তবে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুনিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশের এই সংস্থা।