গত ৯ নভেম্বর ভোররাতে দুই সহকর্মী ও স্ত্রীর মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠান চিকিৎসক জাকির হোসেন। এরপরে তিনি ফরিদপুরের ভাঙা থেকে নিরুদ্দেশ হন। জাকির হোসেন তাঁর যে দুজন সহকর্মীকে বার্তা পাঠান তাঁদের একজন ভাঙা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক মোহসিন উদ্দিন ফকির।

মোহসিন উদ্দিন ফকির বলেন, ‘গত ৮ নভেম্বর বেলা দুইটা পর্যন্ত জাকির হোসেন হাসপাতালে ছিলেন। এরপর ৯ নভেম্বর ভোররাত সাড়ে পাঁচটার দিকে জাকির আমাকে একটি বার্তা পাঠান। বার্তায় তিনি জানান, তাঁর শাশুড়ি খুবই অসুস্থ। জরুরিভিত্তিতে বাড়িতে (মানিকগঞ্জ) যেতে হচ্ছে তাঁকে। এরপর আমি ঘুম থেকে উঠে জাকিরের মুঠোফোনে কল করলে তাঁর ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। জাকির হোসেন একই বার্তা আমাদের সহকর্মী মঈন উদ্দিন আহমেদকেও পাঠিয়েছিলেন।’

মোহসিন উদ্দিন ফকির আরও বলেন, ‘গত ১০ নভেম্বর রাতে জাকিরের স্ত্রী আমাকে কল করে জানান, দুদিন ধরে মুঠোফোনে তিনি তাঁর স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। এটা শুনে আমি চিন্তিত হয়ে পড়ি এবং বিস্তারিত জানতে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলি। জাকির তাঁর স্ত্রীকেও খুদে বার্তা পাঠিয়ে জানিয়েছিলেন যে, তাঁর মুঠোফোনটি চার্জ নিচ্ছে না। মুঠোফোনটি বন্ধ থাকবে। পরে এদিন রাতেই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আমি ভাঙা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি।’

জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের পরিদর্শক মাহিদুল ইসলাম যাত্রাবাড়ী থানায় যে মামলা করেছেন তাতে বলা হয়েছে, জাকিরের মুঠোফোনে ‘জঙ্গিবাদ সম্পর্কিত কন্টেন্ট’ আছে। অনলাইনে ‘কাইজেন সিরিজ ডট ওয়ার্ড প্রেস ডটকম’ নামে তাঁর একটি ব্লগও আছে। তাঁর মুঠোফোনটি ওই ব্লগে লগ ইন অবস্থায় পাওয়া যায়। এতে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করাসহ সংবিধানবিরোধী বিভিন্ন লেখা রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেন।

চিকিৎসক জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে ডিএমপি যে অভিযান চালিয়েছে, তার নেতৃত্বে ছিলেন স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের অতিরিক্ত উপকমিশনার আহমেদুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কাইজেন সিরিজের মাধ্যমে জাকির হোসেন আনসার আল ইসলামের সদস্যদের জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করার কাজ করতেন। কাইজেন সিরিজ তাঁর নিজের লেখা। তিনি জঙ্গিবাদে প্রশিক্ষণের জন্য এই সিরিজ নিয়ে আলোচনা করেন এবং সবাইকে ব্লগটি পড়ার নির্দেশ দেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন, গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে বৃহস্পতিবার জাকির হোসেনকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে সাতদিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। তবে শুনানি শেষে আদালত তাঁর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।