নোয়াখালীতে আরও এক ‘প্রক্সি’ চাকরিপ্রার্থীর জেল, শিক্ষককে পুলিশে সোপর্দ

নোয়াখালীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ‘প্রক্সি’ জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার শিক্ষক মাহমুদুল হাসান
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অন্য আরেকজনকে দিয়ে দেওয়ানোর পর (প্রক্সি) মৌখিক পরীক্ষা দিতে এসে ধরা পড়েছেন আরও এক চাকরিপ্রার্থী। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তাঁর জালিয়াতি ধরা পড়ে। পরে তাঁকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযুক্ত ওই চাকরিপ্রার্থীর নাম মহব্বত উল্যাহ (২৮)। তিনি হাতিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর কৈলাশ গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে। এর আগে গত রোববার লিখিত পরীক্ষায় ‘প্রক্সি’ দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়া একই উপজেলার আরেক চাকরিপ্রার্থী রুপেন দাশকে (২৮) আটক করে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তিনিও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মৌখিক পরীক্ষা দিতে এসে ধরা পড়েছিলেন।

এ ছাড়া নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সির সঙ্গে জড়িত অভিযোগে মাহমুদুল হাসান ওরফে বিপ্লব নামের এক শিক্ষককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়। গতকাল সন্ধ্যায় তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের মেঘপাষান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মহব্বত উল্যাহ গত ২০ মে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে অন্য একজনকে দিয়ে প্রক্সি পরীক্ষা দেওয়ান। তাঁর পরীক্ষার সিট পড়েছিল হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়ে।

সূত্র জানায়, প্রক্সি পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে তিনি উত্তীর্ণ হন। এরপর গতকাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মৌখিক পরীক্ষা দিতে হাজির হন তিনি। পরীক্ষা শুরুর আগে বোর্ডের পক্ষ থেকে কেউ যদি প্রক্সি দিয়ে থাকেন, তাঁকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করা হয়। কিন্তু মহব্বত উল্যাহ ঠিকই মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে হাজির হন।

মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডের একাধিক সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, মৌখিক পরীক্ষায় উপস্থিত হওয়ার পর মহব্বতের লিখিত পরীক্ষার খাতার হাতের লেখার গরমিল পাওয়া যায়। এরপর লিখিত পরীক্ষার বিভিন্ন বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেখানে তিনি অন্যজনকে দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানোর কথা স্বীকার করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাশ প্রথম আলোকে বলেন, অভিযুক্ত চাকরিপ্রার্থীর দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে তাঁকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডবিধির ১৮৬০ সালের ১৮৮ ধারা মোতাবেক ওই দণ্ড দেওয়া হয়। আদেশের পর তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের সদস্যসচিব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, অন্য ব্যক্তিকে দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানোর প্রক্রিয়ায় জড়িত অভিযোগে ইতিমধ্যে হাতিয়ার দুজন স্কুলশিক্ষককে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে জাহাজমারা ইউনিয়নের মেঘপাষান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হাসানকে ডেকে এনে বিভাগীয় মামলা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। একই ঘটনায় জড়িত অপর শিক্ষককে তাঁর কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তিনি আত্মগোপনে আছেন।

হাতিয়ার স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে হাতিয়ায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়ানোর মাধ্যমে বেশ কিছু ব্যক্তিকে চাকরি দিয়েছে। এ কাজে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত নেয় চক্রটি। ওই চক্রের প্রধান একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলে জানা গেছে।