ভুক্তভোগী ওই কিশোরের নাম আসিফ মিয়া (১৫)। সে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের জয়পুরা গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। অভিযুক্ত দুজন হলেন একই ইউনিয়নের সরকারচর গ্রামের মুরগির খামারি সুলতান মিয়া ও তাঁর ছোট ভাই নাছির মিয়া। ওই কিশোরের পরিবারের অভিযোগ, ২৩ অক্টোবর সকাল থেকে ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে ওই খামারে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।

কিশোরের বড় ভাই আবদুল্লাহ বলেন, তাঁরা দরিদ্র পরিবারের সন্তান। খুব কষ্ট করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে আসিফ সবার ছোট। সে সরকারচর গ্রামের সুলতান মিয়ার মুরগির খামারে সাত হাজার টাকা মাসিক বেতনে চাকরি নেয়। ২৩ অক্টোবর সকালে মুরগির খামারটির মালিক সুলতান মিয়ার ছোট ভাই নাছির মিয়া খামারে আসেন। এসে তিনি খামারের পাশের ঘরের চৌকিতে মুরগির বিষ্ঠা পড়ে থাকতে দেখেন। পরে আসিফকে ডেকে উপর্যুপরি চড়থাপ্পড় মারেন। বিভিন্ন কায়দায় অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় তার ওপর। এভাবে চার দিন ধরে তাকে ওই ঘরেই আটকে রাখেন তাঁরা। ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় কৌশলে সে পালিয়ে বাড়িতে ফিরে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে নির্যাতনের বর্ণনা দেয়। এরপরই তাকে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

আবদুল্লাহর অভিযোগ, এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর থেকেই অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য সুলতান মিয়া ও তাঁর ছোট ভাই নাছির মিয়া বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। অভিযোগ তুলে না নিলে তাঁদের দুই ভাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুলতান মিয়া বলেন, ‘ঘটনার দিন আসিফের গাঁজা খাওয়া নিয়ে তার সঙ্গে আমার ছোট ভাই নাছিরের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধাক্কা লাগলে আসিফ টিনের বেড়ার ওপর পড়ে গিয়ে গলায় আঘাত পায়। তাকে কোনো ধরনের মারধর করা হয়নি।’ চার দিন আটকে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা তো পুরাই মিথ্যা। ঘটনার পরদিনই তাকে ডাক্তারের কাছ থেকে ওষুধ এনে দেওয়া হয়েছিল। এখন বিষয়টাকে বড় করে আমাদের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে তারা।’

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই কিশোর বর্তমানে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।