তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে সাকিবুল হত্যা মামলায় সহপাঠী রিমান্ডে
রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও কলেজের ছাত্রাবাসে উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসানকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার এক সহপাঠীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত আজ রোববার উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আজ সকালে আসামি এই শিক্ষার্থীকে ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগ। সে ওই কলেজেরই দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সাকিবুল হাসানকে হত্যার ঘটনায় গত ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা হয়। মামলাটি তদন্ত করছে ডিবি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আদালতে এক আসামিকে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, তেজগাঁও কলেজের ছাত্রাবাসের ছাদে গত ৬ ডিসেম্বর অজ্ঞাতনামা ছাত্রের মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী সাকিবুল হাসান (১৮) ও জান্নাতের (১৭) সঙ্গে এই আসামির কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরই জেরে বহিরাগত কিছু অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি কলেজ ছাত্রাবাসে এসে তাকে মারধর করে। পরে সে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ছাত্রাবাসে ফিরে আসে।
রিমান্ড আবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, আসামির ধারণা, তাকে মারধরের ঘটনায় সাকিবুল হাসানসহ অন্য ছাত্ররা জড়িত। তাই ক্ষোভ থেকে পরদিন রাত ১টা ১০ মিনিটে সেসহ অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জন ছাত্রাবাসে ঢুকে সাকিবুল হাসান ও জান্নাতের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা চাপাতি দিয়ে সাকিবুলের মাথার পেছনে আঘাত করে। জান্নাত সাকিবুলকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে যায়। আসামিরা তখন লোহার পাইপ ও রড দিয়ে তাকেও মাথা, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। পরে সাকিবুল ও জান্নাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ১০ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাকিবুল মারা যান।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, আসামি এই শিক্ষার্থী একটি ইট নিয়ে ছাত্রাবাসে ঢুকে ছাত্রদের ধাওয়া করে।
(ডিবি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার রাকিবুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এই শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার ঘটনাটি কীভাবে, কারা ঘটিয়েছিল, তা জানা গেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এদিকে এ ঘটনায় আরেক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে শেরেবাংলা থানা–পুলিশ। তাকেও ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।