দুজনকে গ্রেপ্তারের পর র‍্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চক্রের মূল হোতা রেজাউল। তিনি সহজ ডটকমের সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার।

র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের পর রেজাউলকে চাকরিচ্যুত করে সহজ ডটকম। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, রেজাউল একজন সাপোর্ট স্টাফ ছিলেন, ইঞ্জিনিয়ার নন।

দুজনকে গ্রেপ্তারের পর র‍্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, রেলওয়ের অনলাইন টিকিট বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন রেজাউল। প্রতি ঈদ মৌসুমে সার্ভার থেকে দুই থেকে তিন হাজার টিকিট সরাতেন তিনি। পরে এই টিকিট ১০ থেকে ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করতেন।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছিল, অনলাইন টিকিট বিক্রির সার্ভারে প্রবেশের সুযোগ ছিল রেজাউলের। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি ছয় বছর ধরে টিকিট কালোবাজারি করে আসছিলেন।

র‍্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন তখন সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিটের বিপুল চাহিদা থাকে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে টিকিট কালোবাজারি করে আসছিলেন তাঁরা। তাঁদের এই জালিয়াতির কারণে অনলাইনে টিকিট ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যেত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রেজাউল স্বীকার করেন, রেলওয়ের ভিআইপি ব্যক্তিদের টিকিট সরবরাহের মাধ্যমে নির্বিঘ্নে তিনি এই কাজ করে আসছিলেন। গ্রেপ্তারের পর রেজাউলকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সহযোগী এমরানুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ই-টিকিট জব্দ করা হয়। এই চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির বিষয় উন্মোচিত হয়েছে।

মামলার কাগজপত্রের তথ্য বলছে, রেজাউল সহজ ডটকমের আগে অনলাইনে টিকিট বিক্রির দায়িত্বরত প্রতিষ্ঠান সিএনএস বিডিতে কর্মরত ছিলেন। অভিজ্ঞ কর্মী হিসেবে সহজ ডটকম তাঁকে নিয়োগ দেয়। তিনি সার্ভার থেকে টিকিট সরিয়ে পরিচিতজনদের কাছে ৫০০ টাকা বেশিতে বিক্রি করতেন। অপরিচিত ব্যক্তিদের কাছে নির্ধারিত দামের চেয়ে এক থেকে দেড় হাজার টাকা বেশি দামে টিকিট বিক্রি করতেন।