গায়ে হলুদে ছবি তোলার কথা বলে ডেকে নিয়ে খুন

নিহত কলেজছাত্র শাওন বড়ুয়া
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের ছবি তোলার কথা বলে ডেকে নেওয়া হয়েছিল কলেজছাত্র শাওন বড়ুয়াকে। পথে তাঁর সঙ্গে থাকা দামি ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় তিনি বাধা দিলে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় শাওনকে। এ ঘটনার এক দিন পর আজ বুধবার এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার নগরের চান্দগাঁও থানার অনন্যা আবাসিক এলাকা থেকে শাওনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শাওন নগরের ওমরগণি এমইএস কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ফটোগ্রাফি করতেন। তাঁর নিজের ক্যামেরা ছিল না। ভাড়ায় ক্যামেরা নিয়ে ফটোগ্রাফি করতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি জেলার সাতকানিয়ায়।

এ ঘটনায় তাঁর বাবা টিপু বড়ুয়া বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেন। গতকাল মঙ্গলবার থেকে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ইমতিয়াজ আলম ওরফে মুরাদ (২১), আশহাদুল ইসলাম ওরফে ইমন (২৪), তৌহিদুল আলম (২৩), মো. বাহার (২২) ও মো. আলমগীর (৩০)। তাদের মধ্যে ইমতিয়াজ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত আর আশহাদুল ক্যামেরা ছিনতাইয়ের অন্যতম পরিকল্পনাকারী বলে দাবি করে পুলিশ।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) পংকজ দত্ত প্রথম আলোকে বলেন, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে ছবি তোলার জন্য শাওনের সঙ্গে চুক্তি করেন আশহাদুল। কথামতো সোমবার রাতে নগরের কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় আসেন শাওন। সেখান থেকে তাঁকে অনুষ্ঠানস্থলে নেওয়ার কথা বলে অনন্যা আবাসিক এলাকায় নিয়ে যান ইমতিয়াজ। সেখানে আসেন আশহাদুল এবং বাহারও। এরপর শাওনের সঙ্গে থাকা ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন ইমতিয়াজ। বাধা দিলে শাওনের মাথা, বুক ও পায়ে ছুরিকাঘাত করা হয়। একপর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে পড়েন শাওন। তখন তৌহিদ এসে ইমতিয়াজকে একটি মোটরসাইকেলে তুলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। বাকিরা অটোরিকশায় করে চলে যান।

শাওন বড়ুয়া হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম, ২৮ ফেব্রুয়ারি
ছবি: সংগৃহীত

গ্রেপ্তার আসামিদের কাছ থেকে একটি ডিজিটাল ক্যামেরা, ক্যামেরার ল্যান্স, দুটি ফ্লাশ লাইট, ক্যামেরার তিনটি ব্যাটারি উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা ও দুটি মুঠোফোন জব্দ করেছে পুলিশ।

চান্দগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছবেদ আলী বলেন, ফেসবুক পেজ থেকে নম্বর নিয়ে শাওনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন আশহাদুল। বিশ্বাস স্থাপনের জন্য মোবাইলের মাধ্যমে ৫০০ টাকা বুকিং মানিও দেন। শাওনকে একটি দোকান থেকে থেকে টাকা পাঠানো হয়েছিল। মঙ্গলবার বিকেলে ওই দোকানটি শনাক্ত করা হয়। দোকানের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজে আশহাদুলকে দেখা যায়। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর বাকিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

শাওনের বাবা টিপু বড়ুয়া ছেলের হত্যাকারীদের শাস্তি চান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আর কোনো মা-বাবাকে যেনো এভাবে সন্তানহারা হতে না হয়।’

এদিকে শাওনের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে আজ বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে চট্টগ্রাম ফটোগ্রাফার ও সিনেমাটোগ্রাফার নামের একটি সংগঠন।