গাইবান্ধায় মন্দির নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস নতুন মামলায় গ্রেপ্তার, পাঠানো হলো কারাগারে
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্রকে এবার রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার একটি প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এই আদেশ দেন।
গত ১২ জুলাই হরিদাসের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানায় মানি লন্ডারিং আইনে একটি মামলা করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। ওই রাতেই গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার একটি মন্দির এলাকা থেকে হরিদাসকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। রিমান্ড শেষে ১৬ জুলাই তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।
আজ প্রতারণার যে মামলায় হরিদাসকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সেই মামলা গত ২৪ আগস্ট করা হয়। মামলায় তাঁকে ছাড়াও ওবায়দুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। মামলা করেন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান।
এ মামলায় হরিদাসের আইনজীবী বাসুদেব গুহ মক্কেলের জামিন চেয়ে পরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ফ্ল্যাট দেওয়ার নামে বাদী মাহবুবুর রহমানের কাছ থেকে মোট ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন আসামিরা। মাহবুবুর রহমান ও আসামি ওবায়দুল ইসলাম কলেজজীবনের বন্ধু। ওবায়দুল নিজেকে একটি ডেভেলপার কোম্পানির মালিক দাবি করে খিলক্ষেত নিকুঞ্জ এলাকায় মাহবুবুরকে একটি ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ফ্ল্যাটের দাম বাবদ ওবায়দুলকে বড় অঙ্কের টাকা দেন মাহবুবুর। পরে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে ওবায়দুল জানান, তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার হরিদাস চন্দ্র। ফ্ল্যাট পাওয়ার আশায় হরিদাসের কথায় বিশ্বাস করে মাহবুবুর তাঁকেও কয়েক দফায় বড় অঙ্কের টাকা দেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁরা ফ্ল্যাট বা টাকা কোনোটিই ফেরত দেননি।
হরিদাসের আইনজীবী বাসুদেব গুহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মক্কেল হরিদাস সম্পূর্ণ নির্দোষ। তাঁকে ফাঁসানোর জন্য এই মামলা দেওয়া হয়েছে।’