সিটিটিসির প্রধান বলেন, ঘটনার দিন মেহেদী বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে আদালত এলাকায় আসেন। তিনি আগে থেকেই পরিকল্পনা করেছিলেন, ছিনিয়ে নেওয়ার পর জঙ্গিদের হাতে টাকা তুলে দেবেন, যাতে তাঁরা পরে খরচ চালাতে পারেন। সুযোগ বুঝে আদালত এলাকায় তিনি এই টাকা জঙ্গিদের হাতে টাকা তুলে দেন।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মেহেদী নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাঁকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে মেহেদী বলেছেন, সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণ থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিদের ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা হয়। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল চার জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়া।

সিটিটিসি–প্রধান বলেন, মেহেদী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার-দণ্ডিত জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। জঙ্গিদের যখন কারাগার থেকে আদালতে আনা হতো, তখন তাঁদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করতেন। তাঁদের সংগঠনের পরিকল্পনার কথা তিনি জানাতেন। দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় মেহেদী সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আগে মেহেদী হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১০ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে বেরিয়ে যান। ২০১৩ সালে তিনি আনসার আল ইসলামের যোগ দেন। মেহেদীর বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, সূত্রাপুর ও বাড্ডা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তিনটি মামলা হয়। এ ছাড়া ২০১০ ও ২০১২ সালে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দুটি মামলা হয়।

সিটিটিসির একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, মোহাম্মদপুর থানার মামলায় জামিনে থাকা অবস্থায় মেহেদী ২০ নভেম্বর আদালতে হাজিরা দিতে এসেছিলেন। আদালতের ফটক থেকে যে দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়, তাঁরাও মোহাম্মদপুর থানার ওই মামলার আসামি।

ছিনিয়ে নেওয়া দুই জঙ্গি হলেন মইনুল হাসান শামীম ওরফে সিফাত সামির ও মো. আবু ছিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব। তাঁরা আনসার আল ইসলামের সদস্য। তাঁরা জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন ও লেখক-ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, ছিনিয়ে নেওয়া দুই জঙ্গির অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি ছিলেন ডিএমপির কাউন্টার টেররিজমের (সিটি) উপকমিশনার এস এম নাজমুল হক, ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের উপকমিশনার মো. জসিমউদ্দিন, সিটিটিসির সাইবার ক্রাইমের উপকমিশনার আ ফ ম আল কিবরিয়া ও ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার ফারুক হোসেন।