রাতে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার কথা জানিয়েছিলেন মাকে, সকালে খাটের নিচে মিলল লাশ
রাজধানীর কদমতলীতে একটি বাসা থেকে ইয়ানূর বেগম (২৫) নামের এক নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তালাবদ্ধ কক্ষের খাটের নিচ থেকে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই ইয়ানূরের স্বামী জুয়েল পলাতক।
নিহত ইয়ানূর পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোয়াবাড়িয়া গ্রামের হানিফ হাওলাদারের মেয়ে। তিনি কদমতলীর ৬১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি পাঁচতলা ভবনের ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে স্বামীর সঙ্গে থাকতেন।
পরিবারের বরাত দিয়ে কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুন নাহার জানান, প্রায় তিন মাস আগে নিজেদের পছন্দে পালিয়ে বিয়ে করেন জুয়েল ও ইয়ানূর। জুয়েল পেশায় বাসের সুপারভাইজার। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতেও দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। বিষয়টি রাতেই মুঠোফোনে নিজের মাকে জানিয়েছিলেন ইয়ানূর।
শুক্রবার সকালে ইয়ানূরকে একাধিকবার ফোন দিয়েও না পেয়ে তাঁর বাসায় যান ছোট ভাই ইমাম হোসেন। সেখানে গিয়ে তিনি কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। একপর্যায়ে সন্দেহ হলে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মেঝেতে রক্তের দাগ দেখতে পান তিনি। পরে খোঁজাখুঁজির পর খাটের নিচে বোনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
কামরুন নাহার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ইয়ানূরকে হত্যা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিকেলে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইয়ানূরের আগে বিয়ে হয়েছিল। আগের স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। ওই সংসারে তাঁর পাঁচ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। ছেলেটি নানা-নানির কাছে থাকে।