জাবি শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বামী কারাগারে, রিমান্ড শুনানি ২৪ মার্চ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিহত ছাত্রীর স্বামী ফাহিম আল হাসানছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন এলাকার ভাড়া বাসা থেকে ছাত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর স্বামী ফাহিমকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে রিমান্ডে চেয়ে করা আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ২৪ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আজ সোমবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা ছিদ্দিকা এ আদেশ দেন। ঢাকা জেলা পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক বিশ্বজিৎ দেবনাথ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিশ্বজিৎ দেবনাথ বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক মো. শহিদুজ্জামানের করা পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন আদালতের কাছে জমা দেওয়া হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ জাহিদুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত না থাকায় আজ শুনানি হয়নি। শুনানির জন্য ২৪ মার্চ তারিখ দিন ধার্য করেন আদালত।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, শারমীন জাহান হত্যাকাণ্ডের পর আত্মগোপনে থাকা ফাহিমকে ওই রাতেই ইসলাম নগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফাহিম ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেও হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং সহযোগীদের ধরতে তাঁকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

গতকাল রোববার দুপুরে ক্যাম্পাস–সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় ওই বাসা থেকে শারমীন জাহানকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। গতকালই তাঁরা চাচা মনিরুল ইসলাম আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নিহত শারমীন জাহান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর স্বামী ফাহিম আল হাসান ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। প্রেমের সম্পর্কের পর শারমীন ও ফাহিম গত বছরের ২৪ জুন বিয়ে করে বিষয়টি পরিবারকে জানান। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে শারমীন ও ফাহিমের মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে কলহের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি শারমীন পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৫ মার্চ বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ফাহিম মুঠোফোনে শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলামকে শারমীন গুরুতর অসুস্থ জানিয়ে তাঁকে বাসায় আসতে বলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মনিরুল শারমীনকে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর আশপাশের লোকজনের সহায়তায় শারমীনকে সাভারের বেসরকারি এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সুরতহালের তথ্য জানিয়ে এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শারমীনের কপালের ডান পাশে, মাথার ওপরে গভীর কাটা রক্তাক্ত জখম দেখতে পান।