হেমায়েতকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‍্যাব জানায়,  তিনি ১৫-১৬ বছর বয়স থেকে কবিরাজি পেশা শুরু করেন। কবিরাজি চিকিৎসার নামে নানাভাবে মানুষকে প্রতারিত করে অর্থ উপার্জন করতেন। তাঁর বাবা একজন কবিরাজ ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে কবিরাজির বিভিন্ন পদ্ধতি ও কৌশল শিখেছিলেন তিনি।

র‍্যাব জানায়, নারীরাই ছিল তাঁর প্রতারণার মূল লক্ষ্য। ২০০৩ সালে তিনি তাঁর স্ত্রী–সন্তান নিয়ে পিরোজপুর থেকে বাগেরহাটে এসে কবিরাজি ব্যবসা শুরু করেন। কবিরাজি পেশায় তাঁর অন্যতম সহযোগী ছিল মনু হত্যা মামলার আরেক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোবহান। ২০০৫ সালে জানুয়ারি মাসে সোবহান ভুক্তভোগী মনুর মাথাব্যথার রোগকে মানসিক রোগ বলে আখ্যায়িত করে কবিরাজি চিকিৎসার জন্য হেমায়েতকে কাছে নিয়ে আসেন। ভুক্তভোগী নারীর স্বামী ঢাকায় চাকরি করতেন এবং প্রতি মাসে সংসারের খরচ চালানোর জন্য টাকা পাঠাতেন। সেখান থেকে টাকা জমিয়ে মনু কাপড়ের ব্যবসা করতেন। চিকিৎসা নিতে আসা মনুর সরলতার সুযোগে মনুর টাকা হাতিয়ে নেন হেমায়েত।

র‍্যাব আরও জানায়, মাথাব্যথার জন্য হেমায়েত মনুকে ঘুমের ভেষজ ওষুধ দিতে শুরু করেন। পরে হেমায়েত বলেন, তাঁর সব জমির দলিল ও কাগজপত্র শত্রুপক্ষের জিন নিয়ে যেতে পারে, এই ভয় দেখিয়ে মনুর কাছ থেকে জমির দলিলপত্র জমা নেন।

ঘটনার দিন ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে দলিলে মনুর স্বাক্ষর নিয়ে জমি আত্মসাতের চেষ্টা করেন হেমায়েত। পরে অচেতন অবস্থায় মনুকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন হেমায়েত। হঠাৎ জ্ঞান ফিরে এলে মনু ও হেমায়েতের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে মনুকে কুপিয়ে এবং গলা কেটে হত্যা করেন হেমায়েত।

র‍্যাবের তথ্যমতে, হেমায়েত অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান। সেখানে ৩ বছর থেকে ২০০৮ সালে আবার অবৈধ পথে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। পরে ঢাকার মিরপুরে বসবাস শুরু করেন। ঢাকায় লম্বা চুল ও দাড়িওয়ালা ছবি ব্যবহার করে জাহিদুল নাম ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র নেন। বিভিন্ন সময় তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারও হন। তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে বারবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতেন। সর্বশেষ পাঁচ বছর তিনি মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকায় থেকে কবিরাজির নামে প্রতারণা করে আসছিলেন।