মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বহিষ্কৃত যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

নূর আলমছবি: পুলিশের সৌজন্যে।

রাজধানীর মিরপুরে মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে নূর আলম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি শাহ আলী থানা যুবদলের বহিষ্কৃত সভাপতি। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে আলোচিত এই ঘটনায় মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার আজ শুক্রবার রাতে নূর আলমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, তদন্তে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে নূর আলমের জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল মিরাজ প্রথম আলোকে জানান, নূর আলম শাহ আলী থানা যুবদলের সভাপতি ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে চার বছর আগেই তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে স্থানীয় ‘কিশোর গ্যাং’–এর দলনেতা ইলিয়াস ও নাডা আওলাদকে ভাড়া করেছিলেন এই নূর আলম।

এদিকে দারুসসালাম থানার বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকা থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির লুট হওয়া আসবাব, টিকা, রেজিস্টার খাতা, ফ্রিজ, অফিসের নথিপত্র, প্রিন্টার ও জেনারেটরসহ ৪৬ ধরনের মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি কাভার্ড ভ্যানও জব্দ করা হয়েছে। তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে সরাসরি ভাঙচুর চালিয়ে মালামাল লুট করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে মিন্টু নামের একজনের কাছ থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের টিনসহ কিছু মালামাল এবং মিলন নামের আরেকজনের কাছ থেকে স্টিলের দরজা উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর ১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে সন্ত্রাসী কায়দায় তাণ্ডব চালানো হয়। মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভেতরে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি ও হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর মূল্যবান চিকিৎসাসামগ্রী, ওষুধ, ভ্যাকসিন ও নগদ টাকাসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লুট করে তারা। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনাটি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়।

‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এতে এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় একটি মামলা করেছেন।