হাজারীবাগে পিকআপ চালককে হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

মৃত্যুদণ্ডপ্রতীকী ছবি

রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় আসাদুল ইসলাম নামে পিকআপ গাড়ির চালককে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আসামি রাজু হাওলাদারকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অনিক হাসান ওরফে শান্ত, সজল মিয়া ও কাউছারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার ১৬তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নীপুর আদালত বুধবার এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি রাজুকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খন্দকার সাফি নেওয়াজ নাসির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিন রায় ঘোষণার সময় রাজু হাওলাদারকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। অপর তিন আসামি পলাতক।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালের ১৩ জুন রাত সাড়ে ৯টার গাড়ি চালানো শেষ করে হাজারীবাগ থানার ঢাকা ট্যানারি মোড়ে গাড়ি পার্কিং করে বাসায় ফিরছিলেন আসাদুল। রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে আরএস পাম্পের কাছে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তাঁকে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় রাস্তায় পড়ে যান আসাদুল। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ জুন মারা যান আসাদুল।

এ ঘটনায় আসাদুলের বাবা মোন্নাফ মিয়া ২০২৩ সালের ১৯ জুন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি মামলাটির তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানার উপপরিদর্শক কমল কৃষ্ণ সাহা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। একই বছরের ৭ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, আরএস পাম্পের কাছে পৌঁছালে চার আসামি আসাদুলের কাছে মুঠোফোনসহ যা যা আছে দিয়ে দিতে বলেন। কিন্তু তিনি দিতে না চাইলে রাজু ছুরি দিয়ে আসাদুলের বুকে আঘাত করেন। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁরা আসাদুলের মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান। মামলার বিচার চলার সময় আদালত ২১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।