পানি কিনতে থেমে বাবা-ছেলে অপহৃত, ৫০ হাজার টাকায় মুক্তি: দাবি র‍্যাবের

কল্যাণপুরে বাবা–ছেলেকে অপহরণের পর ৫০ হাজার টাকা আদায় করে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাবছবি: র‍্যাবের সৌজন্যে

রাজধানীর কল্যাণপুরে পানি কিনতে থেমেছিলেন এক ব্যবসায়ী। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছেলে। অভিযোগ, এ সময় দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাঁদের অপহরণ করে একটি পুরোনো ভবনের চিলেকোঠায় আটকে নির্যাতন করা হয়। পরে ৫০ হাজার টাকা আদায় করে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করার তথ্য জানিয়েছে র‍্যাব-৪।

আজ রোববার রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়ায় র‍্যাব-৪ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-৪ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এন রায় নিয়তি।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. বিল্লাল (৩৫), মো. জুম্মন (৩০) ও শেখ মো. ফয়সাল (৩৫)।

র‍্যাবের দাবি, ভুক্তভোগীর নাম মো. মাহফুজুর রহমান। তিনি রাজধানীর সবুজবাগের বাসিন্দা ও পেশায় ব্যবসায়ী। ২ জুলাই দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে তিনি ছেলেকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে মোহাম্মদপুরে আত্মীয়ের বাসা থেকে সবুজবাগে ফিরছিলেন। পথে কল্যাণপুরে দারুসসালাম জামে মসজিদের নিচে একটি দোকানে পানি কিনতে থামেন। পানি নিয়ে মোটরসাইকেল চালু করার সময় পাঁচ থেকে ছয়জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাঁদের জিম্মি করে পাশের একটি পুরোনো ভবনের চিলেকোঠায় নিয়ে যায়।

র‍্যাবের ভাষ্য, সেখানে মাহফুজুর রহমানকে মারধর করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তাঁর ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ও মুঠোফোন তল্লাশি করে পর্যাপ্ত টাকা না পেয়ে স্বজনদের ফোন করে টাকা জোগাড় করতে চাপ দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তার তিনজনের কাছ থেকে মুঠোফোন, লাঠি ও সাউন্ড সিস্টেম উদ্ধার করা হয়েছে
ছবি: র‍্যাবের সৌজন্যে

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব আরও বলেছে, একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর খালাতো ভাইসহ পরিচিত কয়েকজনের সহযোগিতায় ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপর তাঁর মুঠোফোন, নগদ টাকা ও মোটরসাইকেল রেখে বাবা-ছেলেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে ছেড়ে দেওয়া হয়। ছেড়ে দেওয়ার আগে বিষয়টি পুলিশ বা অন্য কাউকে জানালে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পরে মাহফুজুর রহমান মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই দিন চিকিৎসা নিয়েছেন।

র‍্যাব-৪ এর কোম্পানি কমান্ডার কে এন রায় নিয়তি বলেন, ঘটনার পর ভুক্তভোগী দারুসসালাম থানায় মামলা করেন। এরপর র‍্যাব-৪ ঘটনাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। পরে গতকাল শনিবার রাতে দারুসসালাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাবের দাবি, গ্রেপ্তার তিনজন দারুসসালাম, শাহ আলী, মিরপুরসহ আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। তাঁদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মাদক ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।