নতুন দুই মামলায় আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ আদালতের
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষার্থী হত্যা এবং এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পৃথক দুই মামলায় পটুয়াখালী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষার্থী নাইম হাওলাদার হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নাজিম উদ্দিন ফকির। আর তারেক চৌকিদার হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। দুজনেই পৃথক এই দুই মামলায় আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার দেখাতে ৩ সেপ্টেম্বর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজ বুধবার দিন ধার্য করেছিলেন। সেই অনুযায়ী আজ তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত তাঁকে দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ সময় আসামিপক্ষ থেকে তাঁর চিকিৎসার আবেদন জানানো হলে আদালত কারাবিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
‘ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না’
এদিন শুনানি শেষে আদালতকক্ষের এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে আ স ম ফিরোজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি না এ মুহূর্তে ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন আছে। এক মামলায় দুই বছরের সাজা খাটলাম। জামিন হয়েছে। আবার গ্রেপ্তার দেখাল।’
নাইম হত্যা মামলার বিবরণে জানা যায়, গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বেলা দেড়টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার উত্তর কুতুবখালী উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থী নাইম হাওলাদার বাঁ কাঁধের সামনের দিকে গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় পরবর্তী সময়ে হত্যা মামলা করা হয়।
অন্যদিকে তারেক চৌকিদারকে হত্যাচেষ্টা মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ী এলাকায় তারেক চৌকিদারের রুমমেট শিহাব ভবনের ছাদে গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তারেক নিজেও গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় তিনি ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এর পর থেকেই তিনি কারাগারে।