তেজগাঁওয়ে ব্যবসার লেনদেন নিয়ে ছুরিকাঘাতে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে হত্যা, দুজনকে গ্রেপ্তার করল র্যাব
রাজধানীর তেজগাঁওয়ের এফডিসির পুরোনো গেটের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী সেলিমকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তারের পর আসামিদের কাছ থেকে নিহত সেলিমের ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলায় র্যাব-২ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাঈদ মাহমুদ এ তথ্য জানান।
সাঈদ মাহমুদ বলেন, ১৯ জুলাই বেলা তিনটার দিকে এফডিসির পুরোনো গেটের পাশে আর্থিক লেনদেনের বিরোধ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ভাঙারি ব্যবসায়ী মো. সেলিমকে আম কাটার ধারালো চাকু দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পরদিন নিহত সেলিমের স্ত্রী রেখা বেগম তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, মামলার পর গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে আজ মঙ্গলবার ভোরে কারওয়ান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মকবুল ওরফে মুকুল সোহাগ (২৭) এবং মিজানুর রহমান মিজানকে (৩৯) গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় মিজানের কাছ থেকে নিহত সেলিমের ব্যবহৃত মুঠোফোনটি উদ্ধার করা হয়।
আসামিদের বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, ভাঙারি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেন ও অন্যান্য বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এজাহারভুক্ত আরেক আসামি রতনের নির্দেশে তাঁরা সেলিমের ওপর হামলা চালান। রতনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার মিজানের বিরুদ্ধে দস্যুতা, ডাকাতির প্রস্তুতি, মাদক এবং ভেজাল ওষুধ–সংক্রান্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ভেজাল ওষুধের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। অন্যদিকে প্রধান আসামি মকবুলের বিরুদ্ধে মাদক, দস্যুতার চেষ্টাসহ তিনটি মামলা রয়েছে। মাদকের মামলায় এর আগে তিনবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি।