হোয়াটসঅ্যাপে বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে একজনের ৮৬ লাখ টাকা নিয়েছেন তাঁরা
বেশি মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে একটি ভুয়া কোম্পানির নামে প্রায় ৮৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল বুধবার রাতে দিনাজপুরের বিরামপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. মাসুম রানা (৩৮) ও মো. শামীম আক্তার (৩৬)। দুজনেরই বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর এলাকায়।
আজ বৃহস্পতিবার সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতারণার শিকার সালেহ আহাম্মদ খান নারায়ণগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএতে কর্মরত। একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে প্রতারক চক্রের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। চক্রটি তাঁকে ‘ড্রিমপায়ারিং এমসিএস লি.’ নামের একটি ভুয়া কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে উচ্চ মুনাফা দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। তাদের পাঠানো ভুয়া চুক্তিপত্র বিশ্বাস করে সালেহ আহাম্মদ নিজের সঞ্চয়, অফিসের অর্থ এবং স্ত্রীর গয়না বন্ধক রেখে মোট ৮৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ টাকা আসামিদের ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংক হিসাবে পাঠান।
লভ্যাংশ না দিয়ে আসামিরা টাকা আত্মসাৎ করার পর সালেহ আহাম্মদকে বিভ্রান্ত করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ওই প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় গিয়ে দেখেন, সেখানে এই নামে কোনো অফিস নেই। কোম্পানিটি সম্পূর্ণ ভুয়া নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন।
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর গতকাল রাতে বিরামপুরের একটি ওষুধের দোকান থেকে মাসুম রানাকে এবং নিজ বাড়ি থেকে শামীম আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন।
সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতেও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।