ছদ্মবেশে হজ ক্যাম্পে ঢুকে চুরির ঘটনায় ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ গ্রেপ্তার
রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে এক হজযাত্রীর হাতব্যাগ থেকে সৌদি রিয়াল চুরির ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার ময়মনসিংহের ভালুকা থানার সিডস্টোর বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এই চুরির ঘটনায় মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
শনিবার গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আবদুল মান্নান (৪৯)। এর আগে গত বৃহস্পতিবার হাবিবুর রহমান (৬১) ও নাদিম সরকার (৫৩) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
হাবিবুরকে রাজধানীর খিলক্ষেত ও নাদিমকে গাজীপুরের টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় তাঁদের কাছ থেকে চুরি হওয়া ১৭ হাজার সৌদি রিয়াল ও নগদ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২২ এপ্রিল আশকোনা হজ ক্যাম্পে হজযাত্রী ইমান আলীর হাতব্যাগ থেকে ২২ হাজার সৌদি রিয়াল ও নগদ ১০ হাজার টাকা চুরি হয়। এ ঘটনায় ইমরান হোসেনের ছেলে মো. সাইয়ন আহমেদ বিমানবন্দর থানায় একটি চুরির মামলা করেন। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখার (সিটি এসবি) দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় চোর চক্রের এই তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের এয়ারপোর্ট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (এসি) পারভেজ রানা প্রথম আলোকে বলেন, আবদুল মান্নান নিজেই চুরিটি করেন। আগে যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁরা মূলত মান্নানের সহযোগী।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, চুরির পর চেহারা পরিবর্তন করতে মান্নান দাড়ি কেটে ফেলেন। এরপর ঢাকা ছেড়ে ময়মনসিংহে এক আত্মীয়র বাড়িতে আত্মগোপন করেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার ভোরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই চুরির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চুরির ঘটনার বর্ণনায় পুলিশ জানায়, হজ ক্যাম্পের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২২ এপ্রিল পাজামা-পাঞ্জাবি পরা ছদ্মবেশী এক ব্যক্তি ক্যাম্পের ভেতরে ঢোকেন। এ সময় হজযাত্রী ইমান আলী তাঁর ব্যবহৃত হাতব্যাগটি ভুলবশত শৌচাগারে রেখে মসজিদে ঢুকে পড়েন। তখন ওই ছদ্মবেশী চোর শৌচাগারে থাকা ব্যাগটি খুলে দেশি-বিদেশি মুদ্রা নিয়ে সেটি সেখানেই ঝুলিয়ে রেখে নিরাপত্তাকর্মীদের সামনে দিয়ে চলে যান।
পরে ভুক্তভোগী হজযাত্রী হজ পরিচালকের দপ্তরে গিয়ে কান্নাকাটি করে অভিযোগ করেন, তাঁর ব্যাগে ২২ হাজার সৌদি রিয়াল ও ১০ হাজার টাকা ছিল। পরে হজ অফিস থেকে ওই ভুক্তভোগীকে দুই হাজার সৌদি রিয়াল সহায়তা দেওয়া হয়। ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে পবিত্র হজ পালনের জন্য উড়োজাহাজে করে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন।