সুন্দরবনে পর্যটকদের জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় ৯ জনকে আটক করার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। বাহিনীটি বলছে, আটক ব্যক্তিরা ডাকাত দলের সদস্য। তাঁদের মধ্যে ডাকাত দলের প্রধানও রয়েছেন। সুন্দরবন, দাকোপ ও খুলনার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার কোস্টগার্ডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২ জানুয়ারি সুন্দরবনের কানুরখাল এলাকায় কাঠের নৌকায় ভ্রমণের সময় দুজন পর্যটকসহ গোলকানন রিসোর্টের মালিককে জিম্মি করে ডাকাত দল মাসুম বাহিনী। পরে ডাকাতেরা মুক্তিপণ দাবি করেন। বিষয়টি রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ কোস্টগার্ডকে জানালে যৌথ অভিযান শুরু হয়। গোয়েন্দা তথ্য, ড্রোন নজরদারি ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে টানা ৪৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে জিম্মি পর্যটক ও রিসোর্টের মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
কোস্টগার্ড জানিয়েছে, এ সময় ডাকাত দলের সদস্য কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), সালাম বক্স (২৪), মেহেদী হাসান (১৯), আলম মাতব্বর (৩৮), অয়ন কুণ্ডু (৩০), ইফাজ ফকির (২৫), জয়নবী বিবি (৫৫) এবং মোছা. দৃধাকে (৫৫) আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোস্টগার্ডের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে গতকাল বুধবার খুলনার তেরোখাদা থানার ধানখালী এলাকা থেকে ডাকাত বাহিনীর প্রধান মাসুম মৃধাকে (২৩) আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে গুলিসহ তিনটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এ ছাড়া জিম্মি পর্যটকদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া পাঁচটি মুঠোফোন ও একটি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে সক্রিয় কয়েকটি ডাকাত দল বনজ সম্পদ লুণ্ঠন, জেলে–বনজীবীদের অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে পর্যটনশিল্প, বাস্তুসংস্থান ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দায়িত্বের অংশ হিসেবে কোস্টগার্ড শুরু থেকেই ডাকাতবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
কোস্টগার্ড বলেছে, ধারাবাহিক অভিযানের ফলে আছাবুর বাহিনী, হান্নান বাহিনী, আনারুল বাহিনী, মঞ্জু বাহিনী ও রাঙ্গা বাহিনীকে সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি ছোট সুমন বাহিনী, ছোটন বাহিনী ও কাজল–মুন্না বাহিনী ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সক্রিয় করিম–শরিফ বাহিনী, জাহাঙ্গীর বাহিনী ও দয়াল বাহিনীকে দমনে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
কোস্টগার্ড জানায়, গত এক বছরে সুন্দরবনে ডাকাত ও জলদস্যুবিরোধী অভিযানে ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২টি হাতবোমা, ৭৪টি দেশি অস্ত্র, অস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জামাদি এবং ৪৪৮টি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অভিযানে জিম্মি থাকা ৫২ জন নারী ও পুরুষকে উদ্ধার করা হয় এবং ৪৯ জন সক্রিয় ডাকাতকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোস্টগার্ড জানায়, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ, জেলে ও বনজীবীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।