১০ সেপ্টেম্বর রাতে ভৈরব থেকে ঢাকায় আসার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হন একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঢাকার শ্যামপুর ক শাখার কর্মকর্তা আল–মামুন। সেই রাতের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে গত শনিবার আল–মামুন বলেন, ছিনতাইকারীরা যখন তাঁকে রাস্তায় ফেলে যায় তখন গভীর রাত। তিনি কাছের একটি বাজারে গিয়ে এক নিরাপত্তাকর্মীর মুঠোফোন থেকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন করেন। এরপর নরসিংদী সদর ও মাধবদী থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। দুই থানার পুলিশ সদস্যরা কথা বলে তাঁকে মাধবদী থানায় নিয়ে যান। কিন্তু থানায় কোনো অভিযোগ না নিয়ে তাঁকে ঢাকার একটি বাসে তুলে দেওয়া হয়।

ঘটনার চার দিন পর এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে আবার নরসিংদীতে যান বলে জানান আল-মামুন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘অভিযোগ দেখে নরসিংদী সদর থানার ওসি বলেন, “আপনি ব্যাংকে চাকরি করেন, এই ভুল কেমনে করলেন? বেঁচে আছেন শুকরিয়া করে চলে যান।”’

ব্যাংকের কার্ড দিয়ে ছিনতাইকারীরা এত টাকা কীভাবে তুলে নিল জানতে চাইলে আল–মামুন বলেন, কার্ডের গোপন নম্বর নিয়ে রাত ১২টার আগে ৯১ হাজার টাকা তোলা হয়। বাকি টাকা তোলা হয় রাত ১২টার পর।

যা বললেন দুই থানার ওসি

আল–মামুন জানান, ঘটনার পর ৯৯৯–এ ফোন করলে মুঠোফোনে কনফারেন্সে তাঁর সঙ্গে নরসিংদী সদর ও মাধবদী থানার পুলিশ সদস্যদের কথা বলিয়ে দেওয়া হয়। দুই থানার কর্মকর্তারা প্রায় কাছাকাছি সময়ে তাঁর কাছে ছুটে আসেন। তাঁরা তাঁকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে তাঁরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে তাঁকে মাধবদী থানায় নিয়ে যান।

আল–মামুন বলেন, ‘থানায় নেওয়ার পরে পুলিশ আমার অভিযোগ না নিয়ে বলে, ঘটনাস্থল নাকি তাদের থানা এলাকার মধ্যে পড়েনি। এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যে আমি ভয়ে কাঁপছিলাম। তখন আমি পুলিশকে বলেছিলাম, এখন অনেক রাত, আমাকে থানায় থাকতে দিন, সকালে চলে যাব। কিন্তু পুলিশ আমাকে ভোর সাড়ে চারটার দিকে ১০০ টাকা দিয়ে গাড়িতে তুলে দেয়।’

আল-মামুন জানান, ঢাকায় ফেরার দুই দিন পর গত মঙ্গলবার মুঠোফোনে নরসিংদী পুলিশ সুপারকে ঘটনাটি খুলে বলেন। তখন ওই নম্বর থেকে তাঁকে থানায় গিয়ে অভিযোগ দিতে বলা হয়। পরদিন লিখিত অভিযোগ নিয়ে নরসিংদী সদর থানায় যান।

তখন ওসি তাঁকে শুকরিয়া করার পরামর্শ দেওয়া পাশাপাশি কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানায় যেতে বলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনাটি শুরু হয়েছে ভৈরব থানা এলাকা থেকে।

আর যেখানে তাঁকে ফেলে রেখে গেছেন, সেটা মাধবদী থানা এলাকার মধ্যে পড়েছে। এ জন্য অভিযোগ রাখা হয়নি।’

তবে তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন মাধবদী থানার ওসি রকিবুজ্জামান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভুক্তভোগীর ব্যাংক কার্ড দিয়ে টাকা তোলা হয়েছে নরসিংদী সদর থানা এলাকা থেকে। আর যেখানে তাঁকে ফেলে গেছে, সেটা দুই থানার সীমান্ত এলাকা।’ ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, ‘আমার থানা এলাকায় কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়নি। তারপরও যদি ভুক্তভোগী আমার থানায় অভিযোগ করতে চান, আমি তাঁর অভিযোগ নেব।’

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন