‘এক কোটি ২৮ লাখ তো নিছেন আপনারা সবাই’, সেই অডিওতে ফেঁসে গেছেন পুলিশ কর্মকর্তা
ছয় বছর বছর আগে ঢাকায় সিআইডির তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) আকসাদুদ–জামানকে অপহরণ করে তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে আলোচনায় এসেছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মর্যাদার কর্মকর্তা কায়সার রিজভী কোরায়েশী। ওই ঘটনায় আকসাদুদ–জামানের স্ত্রী তাহমিনা ইয়াসমিন ও পুলিশ কর্মকর্তা কায়সার কোরায়েশীর মধ্যে মুঠোফোনের কথোপকথনের একটি অডিও তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তাহমিনা ইয়াসমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘১ কোটি ২৮ লাখ তো নিছেন আপনারা সবাই। আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে ১৪ লাখ দিছি না?’
ঘটনাটি নিয়ে বিভাগীয় মামলার তদন্ত শেষে সম্প্রতি কায়সার কোরায়েশীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং তাঁর টিমের (দল) অন্য পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন ধরনের শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। কায়সার কোরায়েশী এখন উত্তরায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদর দপ্তরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত।
বিভাগীয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিকের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার দেওয়ান জালাল উদ্দিন চৌধুরী।
গত শনিবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেওয়ান জালাল উদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কায়সার কোরায়েশীসহ তাঁর দলের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিভাগীয় মামলার তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দপ্তরে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কায়সার রিজভী কোরায়েশী ছাড়া শাস্তির সুপারিশপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক জাহিদুর রহমান, মিজানুর রহমান, এসআই মাসুদুল ইসলাম, এএসআই প্রকাশ চন্দ্র গুহ ও মো. জুলহাস মিয়া এবং কনস্টেবল মাসুদ রানা।
সিআইডি কর্মকর্তাকে অপহরণ ও ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় এডিসি কায়সার কোরায়েশীকে বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়েছে; শাস্তির মুখে পড়েছেন তাঁর দলের আরও ৫ সদস্য।
বিভাগীয় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮–এর তদন্তসংশ্লিষ্ট ৭, ৮ ও ১১ বিধিসহ প্রাসঙ্গিক অন্য বিধিবিধান অনুসরণ করে কায়সার কোরায়েশীকে বিধিমালা, ২০১৮–এর ৩ (ক), ৩ (খ) ও ৩ (ঘ) বিধি মোতাবেক অদক্ষতা, অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ দুর্নীতিকে গুরুতর অসদাচরণ বা অনিয়ম হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। যার ফলে বরখাস্ত বা অপসারণের মতো কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এটি প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত লাভের জন্য সরকারি পদের অপব্যবহারকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। যার জন্য ফৌজদারি মামলাসহ বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে ফৌজদারি মামলা ও গ্রেপ্তারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিভাগীয় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ পরিদর্শক মো. জাহিদুর রহমানের গুরুদণ্ড হিসেবে এক বছর এবং পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমানের এক বছর পদোন্নতি বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদুল ইসলামকে লঘুদণ্ড হিসেবে ১ মাসের, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) প্রকাশ চন্দ্র গুহকে ১৫ দিনের, এএসআই মো. জুলহাস মিয়াকে ১৫ দিনের এবং কনস্টেবল এস এম মাসুদ রানার লঘুদণ্ড হিসেবে ৩ দিনের বেতন কাটার সুপারিশ করা হয়েছে।
কায়সার কোরায়েশীর বিরুদ্ধে হওয়া বিভাগীয় মামলার প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তাঁর ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দেবে।এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন, মুখপাত্র, পুলিশ সদর দপ্তর
প্রতিবেদনে বলা হয়, দলের সদস্যদের দায়ভার কায়সার কোরায়েশীর ওপর বর্তায়। অবৈধ কার্যক্রমের দায়ভার তিনি কোনোভাবে এড়িয়ে যেতে পারেন না। তাঁর গাফিলতি ও যোগসাজশে সম্মিলিতভাবে একটি টিম হিসেবে প্রকৃত সত্যকে আড়াল করার অপচেষ্টায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপরাধ করেছিল। এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
গত সোমবার যোগাযোগ করা হলে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) কে এম আওলাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘কায়সার কোরায়েশীসহ ছয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হওয়া বিভাগীয় মামলার প্রতিবেদন ফাইল আমি এখনো হাতে পাইনি। সিস্টেমিক ওয়েতে ফাইল আমার কাছে যখন আসবে, তখন আমি এ নিয়ে কথা বলতে পারব।’
তবে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, কায়সার কোরায়েশীর বিরুদ্ধে হওয়া বিভাগীয় মামলার প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তাঁর ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দেবে।
বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক প্রথম আলোকে বলেন, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় ফৌজদারি অপরাধ। সে ক্ষেত্রে ওই পুলিশ কর্মকর্তাসহ তাঁর দলের বিরুদ্ধে মামলা ও তাঁদের জেল হবে। কিন্তু তা না করে পুলিশ কর্মকর্তাদের বাঁচিয়ে দিতে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। বিভাগীয় মামলা একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ। এর সর্বোচ্চ সাজা চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অপসারণ।
২০২০ সালে সিআইডির তৎকালীন এসআই আকসাদুদ–জামানকে অপহরণ করে তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ ওঠে এডিসি কায়সার কোরায়েশী ও তাঁর টিমের বিরুদ্ধে। টাকা লেনদেন নিয়ে আকসাদুদের স্ত্রী ও পুলিশ কর্মকর্তা কায়সার কোরায়েশীর কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছিলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তা দুর্নীতি করলে তাঁর শুধু চাকরিই যাবে না; বরং তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও করা হবে।
ছয় বছর আগে ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর সিআইডির তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) আকসাদুদ–জামানকে অপহরণ করে তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ ওঠে তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. কায়সার রিজভী কোরায়েশী ও তাঁর দলের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে।
ঘুষ লেনদেনের ওই ঘটনায় আকসাদুদ–জামানের স্ত্রী তাহমিনা ইয়াসমিন এবং ডিবির এডিসি কায়সার কোরায়েশীর মধ্যে মুঠোফোনের কথোপকথনের সেই অডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। প্রায় এক বছর তদন্ত করে ওই ঘটনার সত্যতা পায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তখন ওই প্রতিবেদনে কায়সার কোরায়েশীকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তাঁর দলের পাঁচ সদস্যের শাস্তির সুপারিশ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে কায়সার কোরায়েশীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়নি। পরে তাঁকে রাজধানীর উত্তরায় এপিবিএন সদর দপ্তরে বদলি করা হয়। তাঁর দলের চার সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা পালন করা হয়নি। আর এসআই মাসদুল ইসলামকে তখন সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল, পাশাপাশি কেটে নেওয়া হয়েছিল এক মাসের বেতন।
এ বিষয়ে গত শনিবার যোগাযোগ করা হলে কায়সার কোরায়েশী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে দেওয়া বিভাগীয় মামলার প্রতিবেদন পড়েছি, ওখানে যেটা আছে, রাষ্ট্র বা সরকার সেভাবেই সিদ্ধান্ত নেবে।’
এক প্রবাসীকে অপহরণে ঘটনার সূত্রপাত
২০২০ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের কবলে পড়েন দুবাইপ্রবাসী রোমান মিয়া। ফুফাতো ভাই মো. মনির হোসেনকে নিয়ে তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে যাচ্ছিলেন। কাওলা পদচারী-সেতুর কাছে মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল দিয়ে তাঁদের পথ আটকানো হয়। মনিরকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে ডিবি পরিচয় দিয়ে রোমান মিয়াকে মাইক্রোবাসে তুলে নেন দুর্বৃত্তরা। তাঁর হাতে হাতকড়া লাগিয়ে চোখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর কাছ থেকে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার ও দুই হাজার দিরহাম (সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুদ্রা) ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে রামপুরা এলাকায় ফেলে যান দুর্বৃত্তরা।
পরদিন এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন রোমান। ওই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি। মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ছিলেন এডিসি কায়সার রিজভী কোরায়েশী এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ডিবির এসআই মাসুদুল ইসলাম।
অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় ফৌজদারি অপরাধ। সে ক্ষেত্রে ওই পুলিশ কর্মকর্তাসহ তাঁর দলের বিরুদ্ধে মামলা ও তাঁদের জেল হবে। কিন্তু তা না করে পুলিশ কর্মকর্তাদের বাঁচিয়ে দিতে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।শাহদীন মালিক, আইনজীবী
ডিবি সূত্র জানায়, তদন্তে প্রবাসী রোমান মিয়াকে রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া ও ডাকাতির ঘটনায় এসআই আকসাদুদ–জামানসহ নয়জনের জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
এসআই আকসাদুদ–জামান ওই সময় সিআইডিতে কর্মরত ছিলেন। পুলিশে যুক্ত থাকা অবস্থায় তিনি ডাকাতির মাধ্যমে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হন বলে ডিবির তদন্তেই বেরিয়ে এসেছিল।
তবে আকসাদুদ–জামান প্রথম আলোকে বলেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণার একটি মামলা তদন্ত করতে গিয়ে তিনি মাদারীপুর-শরীয়তপুরভিত্তিক একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সন্ধান পান। ওই চক্র হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার করছে বলে তিনি জানতে পারেন। তখন সিআইডি থেকে তাঁকে মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়ে তদন্ত করার আদেশ দেওয়া হয়। এরপর খোঁজ নিয়ে রোমান মিয়ার বিষয়ে জানতে পারেন। আকসাদুদের অভিযোগ, রোমান মিয়ার সঙ্গে কায়সার রিজভীর পূর্বপরিচয় থাকায় মামলাটি তদন্তের ভার ডিবিতে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কায়সার রিজভী তখন ডিবির উত্তরা বিভাগের বিমানবন্দর জোনাল টিমে ছিলেন।
আকসাদুদও অপহরণের কবলে
আকসাদুদের স্ত্রীর অডিও কথোপকথন ফাঁসের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে তদন্ত করেছিল, সেই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তাঁকে তুলে নেওয়া ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
সে অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর সকালে আকসাদুদ সিআইডি কার্যালয়ে যাওয়ার পথে মালিবাগ মোড়ে পৌঁছালে তাঁকে কায়সার রিজভীসহ তাঁর দলের সদস্যরা আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে বলা হয়, কাওলায় প্রবাসী রোমান মিয়ার অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁরা এ ঘটনায় আকসাদুদের নাম বলেছেন। একপর্যায়ে অভিযোগ থেকে তাঁদের রেহাই দেওয়া নিয়ে কথা হয়। কায়সার কোরায়েশী দুই কোটি টাকা চান। এ সময় কায়সার রিজভীর ফোন দিয়ে আকসাদুদ হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। পরে আটক ব্যক্তিদের সবাইকে মুঠোফোনে তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়। কথামতো সবাই আকসাদুদের বাসায় টাকা রেখে যান।
প্রবাসী রোমান মিয়ার ডাকাতির মামলায় আকসাদুদ–জামানসহ নয়জনের বিরুদ্ধে বিচার চলছে। ডিবির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আকসাদুদ–জামানকে বরখাস্ত করা হয়। তাঁকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। তিনি বর্তমানে ওই মামলায় জামিনে আছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আকসাদুদ দিয়েছিলেন ৩৩ লাখ টাকা আর বাকি ৫ জন দেন ৯৫ লাখ টাকা। ওই দিন সন্ধ্যার পর আকসাদুদকে সঙ্গে নিয়ে খিলগাঁও ঝিলপাড় এলাকায় তাঁর বাসায় গিয়ে ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা নিয়ে আসেন কায়সার রিজভীসহ তাঁর টিমের সদস্যরা। তখন আকসাদুদকে আবার ডিবি অফিসে আনা হয়। পরে তাঁর স্ত্রী কায়সার রিজভীকে আরও ১৪ লাখ টাকা দেন। এরপর ২৮ নভেম্বর আকসাদুদ ছাড়া পান।
বরখাস্ত আসসাদুদের পাল্টা অভিযোগ
প্রবাসী রোমান মিয়ার করা মামলা চলতে থাকে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে একজন হাসান রাজা। তিনি পরবর্তী সময়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাতে রোমান মিয়াকে তুলে নিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আকসাদুদও জড়িত বলে দাবি করেন।
এ মামলায় ২০২২ সালের ২২ মে আকসাদুদ–জামানসহ নয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি। অভিযোগপত্রভুক্ত অন্যরা হলেন সেলিম মোল্লা, রিপন মোড়ল, আমির হোসেন, রিজু মিয়া সিকদার, হাসান রাজা, মিলন মোড়ল, মনির হোসেন ও স্টেশনারি ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন।
এর আগে ডিবির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০২১ সালের ১৮ আগস্ট আকসাদুদ–জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করে সিআইডি।
এর সপ্তাহখানেকের মাথায় ৩১ আগস্ট কায়সার রিজভী কোরায়েশীসহ ডিবির ওই সাত সদস্যের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন আকসাদুদ। এর সপ্তাহ না যেতেই ৮ সেপ্টেম্বর আকসাদুদের স্ত্রীর সঙ্গে ডিবি কর্মকর্তা কায়সার রিজভীর অর্থ লেনদেনের টেলিফোন কথোপকথনের অডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।
ওই দিনই রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে আকসাদুদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। পরে তাঁকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। আকসাদুদ বর্তমানে ওই মামলায় জামিনে আছেন।