কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৬ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। সমাবেশ চলাকালে নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকা অতিক্রম করে নগর যুবদলের একটি মিছিল সেখানে যাওয়া চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে পুলিশ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। আধঘণ্টা ধরে চলা ওই সংঘর্ষে দশটি গাড়ি ভাঙচুর হয়। পুড়িয়ে দেওয়া হয় পুলিশের গাড়ি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশ সদস্য এবং বিএনপির ২০ কর্মী আহত হন। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে নগরের কোতোয়ালি থানায় পৃথক চারটি মামলা করে। মামলায় নগর বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত, সদস্যসচিব আবুল হাশেমসহ ১৫৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১ হাজার ৩০০ জনকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ২৫ জনের একজন নগরের পাঠানটুলি সিটি করপোরেশন উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্র। ঘটনার দিন ১৬ জানুয়ারি পুলিশ তাকে এমএ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। স্টেডিয়াম এলাকায় বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী বিক্রির দোকান রয়েছে। সে পরিবারের সঙ্গে নগরের পশ্চিম মাদারবাড়ি এলাকায় থাকে। ওই ছাত্রের মা প্রথম রোববার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, জেএসসি পরীক্ষার সনদ অনুযায়ী তাঁর ছেলের বয়স ১৭ বছর ছয় মাস। কিন্তু পুলিশ তাঁর ছেলেকে যে মামলায় আসামি করেছে সেখানে বয়স লিখেছে ১৯ বছর। তাঁর ছেলে রাজনীতি করে না। ঘটনার দিন জার্সি কেনার জন্য স্টেডিয়াম এলাকায় এসেছিল। সেখানে সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়।

ওই স্কুলছাত্রের মা বলেন, ছেলেকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে শুনে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানায় যান। পুলিশকে অনেকভাবে বুঝিয়েছেন। কিন্তু কেউ শোনেননি তাঁর কথা। এখন ছেলের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার চান তিনি।

পাঠানটুলি সিটি করপোরেশন উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক সমীরণ বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার জানামতে ছেলেটা ভালো। কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়।’ তাকে পুলিশ কেন ধরল বুঝতে পারছেন না সমীরণ বড়ুয়া।

জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  (ওসি) জাহিদুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, স্কুলছাত্রকে মামলায় আসামি করা যাবে না এমন কোনো আইন নেই। তাকে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ আটক করেছে। বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশকে পাথর ছুড়ে মারার ফুটেজ রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ আরও অনেককে আটক করলেও যাচাই-বাছাই করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বয়স ১৯ প্রসঙ্গে ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে ছেলেটির বয়স ১৯। তাই এজাহারে লেখা হয়েছে। তদন্ত শেষে বয়স ১৮ বছরের কম হলে শিশু আইন অনুযায়ী দোষীপত্র দেওয়া হবে।

রিমান্ড নামঞ্জুর

এদিকে পুলিশের করা মামলায় রোববার ওই স্কুলছাত্রসহ গ্রেপ্তার ২৫ জনের রিমান্ড আবেদন শুনানি শেষে নাকচ করে দেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল দেব।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) কামরুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, নগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সহিদুল আলমসহ ২৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড আবেদন নাকচ করে দেন।