কিশোর গ্যাং নেতা অ্যালেক্স ইমন হত্যার আসামিসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার, অস্ত্র–গুলি উদ্ধার
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কিশোর গ্যাং নেতা অ্যালেক্স ইমন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি জহিরুল ইসলাম ওরফে বিপুলসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব–২। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে দেশি–বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-২-এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান এ তথ্য জানান।
গত ১২ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় রাস্তার ওপর প্রকাশ্যে কিশোর গ্যাং নেতা ইমন ওরফে অ্যালেক্স ইমনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়। ঘটনার পরপরই এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত এই মামলায় র্যাব পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
নয়মুল হাসান বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁরা জানতে পারেন যে কেরানীগঞ্জের শাক্তা ইউনিয়নের খোলামোড়া এলাকা কয়েকজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী জড়ো হয়েছেন। পরে র্যাব–২–এর একটি দল শাক্তা ইউনিয়নের কোলচর এলাকা থেকে মো. হৃদয় (২৩), সুজন (২২) এবং সোহেল ওরফে চায়না সোহেলকে (২৬) একটি বিদেশি পিস্তল ও তাজা গুলি, দুটি তরবারি, তিনটি সামুরাইসহ গ্রেপ্তার করে। আর খোলামোড়া এলাকা থেকে রাব্বি ওরফে পিঞ্জিরা রাব্বিকে (২২) একটি একনলা বন্দুক, পাচটি তাজা গুলি এবং একটি সামুরাইসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, রাব্বির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে ইমন হত্যাকাণ্ডের সাত নম্বর আসামি জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকেও একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। জহিরুলসহ গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিরুদ্ধেই হত্যা, দস্যুতা, মাদক, চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
র্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জহিরুলের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর ও কিশোরগঞ্জের ইটনা থানায় হত্যা, দস্যুতা, মাদক ও চুরির অভিযোগে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া সুজনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর ও ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানায় আটটি, সোহেলের বিরুদ্ধে চারটি, হৃদয়ের নামে মোহাম্মদপুর ও কিশোরগঞ্জের ইটনা থানায় তিনটি আর রাব্বির বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় চারটি মামলা রয়েছে।
মোহাম্মদপুরের কিশোর গ্যাং প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে নয়মুল হাসান বলেন, ‘মোহাম্মদপুরে এখন কোনো গ্যাং সক্রিয় নেই, সবাইকে আমরা সাপ্রেস (দমন) করে ফেলেছি। সাপ্রেস করলে আরও বেশি সচেতন থাকতে হয়। কেউ আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে কি না। সে জন্য মোটরসাইকেল টহল বাড়িয়ে দিয়েছি। বিশেষ করে রাতের বেলা বেশি করে মোটরসাইকেল এবং পিকআপ দিয়ে টহল বাড়িয়ে দিয়েছি। যেসব জায়গায় থ্রেট (ঝুঁকি আছে) মনে করছি, সেসব জায়গাকে বিশেষ নজর দিচ্ছি। সুফলও পাচ্ছি।’