ছেলের বসানো সিসিটিভিতে ধরা পড়ল মাকে হত্যার দৃশ্য, গ্রেপ্তার নাতি কারাগারে
রাজধানীর দক্ষিণখানে ৭১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ফ্ল্যাটে ছেলের বসানো সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এই হত্যাকাণ্ডের পুরো দৃশ্য। সেই ফুটেজের সূত্র ধরে নিহত নারীর নাতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
নিহত ওই বৃদ্ধার নাম মাহবুব আরা বেগম। আর গ্রেপ্তার আসামির নাম আবু তালহা। তিনি মাহবুব আরার দেবরের ছেলের ঘরে নাতি।
মায়ের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল শুক্রবার দক্ষিণখান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহত নারীর ছেলে মোহাম্মদ মাহবুব হাসান। মামলার পর অভিযান চালিয়ে দক্ষিণ গাওয়াইর এলাকা থেকে আবু তালহাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আজ শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালতে আবু তালহাকে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ-আল-মামুন। পরে তাঁর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন আদালত। জবানবন্দি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বক্কর সিদ্দিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯ মাস আগে মাহবুব আরা বেগমের স্বামী মারা যান। এরপর তিনি দক্ষিণখানের দক্ষিণ গাওয়াইর এলাকায় নিজের চারতলা বাড়ির দোতলার একটি ফ্ল্যাটে একাই বসবাস করতেন। বৃদ্ধা মা একা থাকায় তাঁর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ছেলে মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বাসার বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে শোবার ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেন। তিনি সন্তানদের লেখাপড়ার কারণে উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আবু তালহা নিয়মিত মাহবুব আরা বেগমের বাসায় যাতায়াত করতেন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকায় সারা দিন মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি মাহবুব হাসান। গভীর রাতে, প্রায় তিনটার দিকে তিনি মোবাইল ফোনে বাসার সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে গিয়ে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। ফুটেজে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৪১ মিনিটের দিকে আবু তালহা কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির সহায়তায় ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। পরে তিনি শোবার ঘরে গিয়ে প্রথমে বালিশ ও কাপড় দিয়ে মাহবুব আরা বেগমের শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। বৃদ্ধা প্রাণ বাঁচাতে প্রতিরোধ করলে তাঁকে খাট থেকে টেনে মেঝেতে ফেলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁর গলায় ব্যবহৃত ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়। এতে মাহবুব আরা বেগমের মৃত্যু হয়। এরপর আবু তালহা তাঁর কানের সোনার দুল খুলে নিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে পালিয়ে যান।
নিহত বৃদ্ধার ছেলে মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলেন, ‘সিসিটিভি ক্যামেরার কারণেই হত্যাকারীকে দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আমি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’