পুলিশ বলছে, আলামত দেখে তারা ধারণা করছিল যে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। কে এ ঘটনায় জড়িত, সে ব্যাপারে পরিবারের কোনো ধারণা ছিল না। পুলিশও সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে সন্দেহ করতে পারছিল না। পরে বস্তার সূত্র ধরে আসামি শনাক্ত করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

রহস্য কীভাবে উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হলো, সে বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (দক্ষিণ) নোবেল চাকমা আজ শুক্রবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের সন্দেহ ছিল, আশপাশের কেউ এ ঘটনায় জড়িত। শিশুটিকে হত্যার পর বস্তাবন্দী করা হয়েছিল। এটি ছিল একটি চিনির বস্তা। আমরা এলাকার সব মুদিদোকান ও গুদামে গিয়ে চিনির বস্তা খতিয়ে দেখতে থাকি। একপর্যায়ে লাশ থাকা বস্তাটির সঙ্গে একটি মুদিদোকানের গুদামে থাকা চিনির বস্তার মিল পাই।জিজ্ঞাসাবাদের মুখে গুদামের কর্মচারী লক্ষ্মণ দাস ঘটনার দায় স্বীকার করেন।’

নোবেল চাকমা আরও বলেন, শিশুটিকে আগে থেকেই চিনতেন লক্ষ্মণ দাস। ঘটনার দিন তিনি শিশুটিকে গুদামে ডেকে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, গুদামের পেছনে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন তিনি। শিশুটি চিৎকার দিলে শ্বাসরোধে তিনি হত্যা করেন। পরে শিশুটিকে বস্তাবন্দী করে গুদামের পাশের নালায় ফেলে দেন তিনি।

পুলিশ বলছে, তারা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। এতেও দেখা গেছে, শিশুটি যেদিন নিখোঁজ হয়, সেদিন বিকেলে তাকে গুদামে নিয়ে যাচ্ছেন লক্ষ্মণ দাস।

পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার লক্ষ্মণ দাস চার মাস আগে আরেকটি শিশুকে গুদামে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার কথা স্বীকার করেছেন।
শিশুটির এক স্বজন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা লক্ষ্মণ দাসের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার লক্ষ্মণ দাসকে আজ বিকেলে আদালতে তোলা হবে।