দুর্ঘটনা বলে ধামাচাপার চেষ্টা, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এল হত্যার রহস্য
রক্তাক্ত অবস্থায় রাজু হাওলাদারকে (৪৮) হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে বলা হয়েছিল, কাচের আঘাতে তাঁর শরীর কেটে গেছে; কিন্তু সেই কথায় পুলিশের সন্দেহ হয়। হাসপাতাল থেকেই আটক করা হয় সঙ্গে থাকা সাথী আক্তারকে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে সত্য। ১০ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে স্বামী বজলুর রহমান ও স্ত্রী সাথী আক্তার ছুরি মেরে হত্যা করেন রাজুকে। পরে এই হত্যাকাণ্ডকে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তাঁরা।
পুলিশ বলেছে, গত মঙ্গলবার রাজধানীর বড় মগবাজারে এই হত্যার ঘটনা ঘটে। বড় মগবাজার এলাকায় বজলুর-সাথী দম্পতির কাঁচামালের দোকানের কর্মচারী ছিলেন রাজু হাওলাদার।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাজু হাওলাদার মাঝেমধে৵ বড় মগবাজারে ওই দম্পতির বাসায় থাকতেন। আবার পৃথক বাসায়ও থাকতেন। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে ছুরিকাঘাতে আহত রাজুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান সাথী আক্তার। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সাথী তখন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, রাজু তাঁদের সবজির দোকানের কর্মচারী। কাচের আঘাতে তাঁর শরীর কেটে গেছে। এর আগে রাজুকে মগবাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনাটি সন্দেহজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক তাৎক্ষণিক হাতিরঝিল থানায় জানান। পরে হাতিরঝিল থানার পুলিশ ঢাকা মেডিকেল থেকে সাথীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
ঘটনা তদন্তকারী হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোন্তারছির বিল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, লেনদেন–সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে বজলুর ও তার স্ত্রী সাথী মিলে তাদের বড় মগবাজারের বাসায় রাজুকে ছুরি মেরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন; কিন্তু পুলিশের তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসে। তারা দুজন রাজুকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন।
এ ঘটনায় বজলুর ও সাথী দম্পতিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন রাজুর বোন শাহানা বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রাজু মগবাজারে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। তিনি বজলুরের কাছে ১০ হাজার টাকা পেতেন। রাজু টাকা চাইতে গেলে ‘দিচ্ছি’, ‘দেব’ বলে টালবাহানা করতেন বজলুর। গত মঙ্গলবার রাতে টাকা দেওয়ার কথা বলে তাঁদের বাসায় ডেকে নিয়ে ছুরি মেরে রাজুকে হত্যা করে।
শাহানা বেগম জানান, ১৮ বছর আগে এক ছেলে ও এক মেয়েকে ছোট রেখে রাজুর স্ত্রী মারা যান। তাঁর ছেলে কুমিল্লায় নানির সঙ্গে থাকেন; আর বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। তিনি স্বামীর বাড়িতে থাকেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে রাজুর লাশ ঝালকাঠির আমুয়ায় দাফনের জন্য নিয়ে গেছেন স্বজনেরা।