সাপের বিষসহ ৩৮ কোটি টাকার মালামাল উদ্ধার, আন্তর্জাতিক চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে উদ্ধার হওয়া তিনটি কাচের জারের তরল পদার্থ সাপের বিষ বলে নিশ্চিত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আজ শুক্রবার বিজিবি সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আট দিন আগে ৫ কেজি ৭০০ গ্রাম তরল পদার্থসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিল বিজিবি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উদ্ধার হওয়া সাপের বিষ, যানবাহন ও অন্য মালামালের আনুমানিক মূল্য ৩৮ কোটি ৫৭ লাখ ৩ হাজার ৮০০ টাকা।
বিজিবি জানায়, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গত বুধবার হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে উদ্ধার হওয়া তরলের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফলে সেটি সাপের বিষ বলে প্রমাণিত হয়।
এর আগে ১৩ আগস্ট বেলা দেড়টার দিকে চিরিরবন্দর উপজেলার আমবাড়ী এলাকায় বিজিবির দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিজিবি, র্যাব-১৩ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অংশ নেন।
অভিযানে চারজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে তিনটি কাচের জারে আনুমানিক ৫ কেজি ৭০০ গ্রাম তরল (সাপের বিষ), একটি প্রাইভেট কার, দুটি মোটরসাইকেল, চারটি মোবাইল ফোন ও ছয়টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের দামুর গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৩), দিনাজপুর সদরের ছোট গুড়গোলা গ্রামের মো. সালাউদ্দিন সাঞ্জু (৪১), ফুলবাড়ী উপজেলার খেত দেখি গ্রামের মো. আনিছুর রহমান (৫৫) এবং বিরামপুর উপজেলার কৃন্দনহাট গ্রামের উজ্জ্বল আলী (৫৪)।
বিজিবি জানায়, আটক ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, তাঁরা একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সদস্য। তাঁরা আগেও বিভিন্ন সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশে সাপের বিষ পাচার করেছেন। উদ্ধার করা বিষও বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। অভিযান শেষে ১৩ আগস্ট আটক ব্যক্তিদের মালামালসহ চিরিরবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
বিজিবির দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, অতি মূল্যবান সম্পদ ও বন্য প্রাণিজাত পণ্যসহ যেকোনো অবৈধ দ্রব্যের পাচার রোধে বিজিবি সব সময় সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি মাদক, মানব পাচার, অস্ত্র ও অন্যান্য আন্তসীমান্ত অপরাধ দমনেও বিজিবি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।