রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার আট আসামি ৩ দিনের রিমান্ডে
রাজধানীর মিরপুরে মা ও শিশুস্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে’ মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামির তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার এসআই মো. আতোয়ার রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার এ আদেশ দেন। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই লুৎফর রহমান প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ৪ অক্টোবর আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন মো. শাহাদাত হোসেন (৩৩), কাজী মকবুল হোসেন (৫৮), মো. শাহ আলম (৫৩), মো. আতিকুর রহমান (৩৩), মো. কামরুল ইসলাম (৫২), মো. নুর আলম (৩৯), মো. রফিকুল ইসলাম জিন্নাহ (৩৫) ও মো. সাজ্জাদ হোসেন (৩৬)।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে শাহ আলী থানা এলাকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক হামলা চালায়। তারা প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্ব পালনরত দুই নৈশপ্রহরীকে মারধর করে বেঁধে রাখে। পরে হ্যামার দিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে তারা।
ভেতরে ঢুকে হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাশের একটি সেমিপাকা ঘর, পরিবার পরিকল্পনা সেবার আরেকটি ঘর এবং ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের সেমিপাকা ঘর ভাঙচুর করে। এসব কক্ষে থাকা আসবাব ও যন্ত্রপাতির পাশাপাশি আলট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের পাকা ভবনের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ভাঙচুরের পর প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, দুটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি এবং তিনটি স্টিলের আলমারি লুট করে নিয়ে যায় তারা। এ সময় নৈশপ্রহরীদের নানা ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। পরে সেখানে একটি সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে হামলাকারীরা চলে যায়।
এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বাদী হয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় মো. হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়।