টাকা ধার না দেওয়ায় হত্যা
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হত্যার দেড় দশক পর সহপাঠীর মৃত্যুদণ্ড
ঢাকার জিয়া উদ্যানে ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (ইউডা) ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম হাসানকে হত্যার ঘটনায় দেড় দশক পর চৌধুরী মো. জুলকার নাইন ওরফে মনি নামের এক তরুণকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত জুলকার নাইন হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমবাগ গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে।
রায় ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর রহমান বলেন, এ মামলার আসামি পলাতক রয়েছে। সে জন্য তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা গেছে, শামীম হাসান ও জুলকার নাইন ইউডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে পড়তেন এবং রাজধানীর আদাবরে একই কক্ষে থাকতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফি জমা দেওয়ার জন্য শামীমের কাছে ৫০ হাজার টাকা ধার চেয়েছিলেন জুলকার নাইন। শামীম টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে জুলকার নাইন তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন।
এর জের ধরে ২০১১ সালের ৬ ডিসেম্বর রাতে শামীমকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে একটি পানশালায় নিয়ে যান জুলকার নাইন। সেখানে কৌশলে শামীমকে মদ পান করান। পরে মদ্যপ অবস্থায় তাঁকে জিয়া উদ্যানে নিয়ে যান।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, উদ্যানে নিয়ে জুলকার নাইন পরীক্ষার ফি জোগাড়ের জন্য নিজের ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন বিক্রি করে দেওয়ার কথা বলেন। এ জন্য শামীমের কাছে তাঁর লকারের চাবি চান। শামীম চাবি দিতে রাজি না হওয়ায় জুলকার নাইন প্রথমে তাঁর গলায় ও পরে চেহারা বিকৃত করার জন্য মুখে ছুরিকাঘাত করেন। পরদিন পুলিশ শামীমের লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় শামীমের চাচা ২০১১ সালের ৮ ডিসেম্বর শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরের বছর ২০১২ সালের ১৩ মার্চ জুলকার নাইনকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও তৎকালীন শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহুরুল হুদা। একই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
মামলার বিচার চলাকালে ২১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। ৮ জানুয়ারি বিচারিক কার্যক্রম শেষে আজকে রায় ঘোষণার জন্য তারিখ রেখেছিলেন আদালত।