তাজিয়া মিছিলের ডুলির রশি ধরা নিয়ে জাকিরকে হত্যা করা হয়: পুলিশ

ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেনছবি: ডিএমপির সৌজন্যে

পুরান ঢাকার বাংলাবাজারে আশুরার তাজিয়া মিছিলের ডুলির (একটি প্রতীকী কাঠামো) রশি ধরা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতির জেরে মো. জাকির হোসেনকে (৩১) হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলেন।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

তালেবুর রহমান বলেন, গতকাল শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে সূত্রাপুর থানার বিবিকা রওজা ইমামবাড়া থেকে একটি তাজিয়া মিছিল সূত্রাপুর, চকবাজার ও লালবাগ হয়ে ধানমন্ডির উদ্দেশে রওনা হয়। মিছিলটি বাংলাবাজার অতিক্রম করার সময় বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে পি কে রায় রোডের ইস্পাহানি ভবনের নিচতলায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল যুবক এক যুবককে এলোপাতাড়ি মারধর ও ছুরিকাঘাত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ওই যুবককে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ডিএমপির লালবাগ বিভাগের ডিসি বলেন, ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলের সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ভুক্তভোগী ও হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়। ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম মো. জাকির হোসেন (৩১)। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলেন। থাকতেন লালবাগ এলাকায়।

তালেবুর রহমান আরও বলেন, এ ঘটনায় জাকির হোসেনের বড় ভাই অজ্ঞাতনামা ১৪-১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতেই হত্যায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রাশেদ (২০) আর বাকি তিনজন শিশু। তারা সবাই রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকার বাসিন্দা। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি সুইচ গিয়ার চাকু ও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে তালেবুর রহমান বলেন, তাজিয়া মিছিলে থাকা ডুলির রশি ধরাকে কেন্দ্র করে জাকির ও হামলাকারীদের মধ্যে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা এবং পরে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা জাকিরকে ধাওয়া করলে আত্মরক্ষার্থে তিনি পি কে রায় রোডের ইস্পাহানি ভবনের নিচে আশ্রয় নেন। সেখানে তাঁকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হয়।

ডিএমপির ডিসি তালেবুর রহমান আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদেরও ইতিমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন