চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের ধরতে ব্যর্থ হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীকে শিগগিরই আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘আজকেই নির্দেশনা দিয়েছি। বিশেষ করে ডিএমপিসহ অন্যান্য মেট্রো এলাকায় যারা এ রকম চাঁদাবাজ, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, তাদেরকে অতি শিগগির যদি আমরা হেফাজতে না নিতে পারি, আইনের আওতায় না আনতে পারি, তাহলে যারা যারা ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সন্ত্রাসী হামলায় আহত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক কান গলা বিভাগের (ইএনটি) প্রধান অধ্যাপক আসাদুর রহমানকে দেখতে গিয়ে আজ শনিবার বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
১৭ আগস্ট রাতে রাজধানীর শান্তিনগরে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বার থেকে বের হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন অধ্যাপক আসাদুর রহমান। কিছু দূর যাওয়ার পর অটোরিকশা থামিয়ে তাঁর ওপর হামলা করা হয়। এতে তিনি চোখে গুরুতর আঘাত পান। তিনি জানিয়েছেন, এ ঘটনার কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের নামে তাঁর কাছে ১৫ হাজার ডলার চাঁদা দাবি করে বার্তা পাঠানো হয়েছিল। হামলার পর বার্তা পাঠিয়ে তাঁকে আবার হুমকি দেওয়া হয়।
অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ বাহিনী ও ডিবি একজনকে লক্ষ্মীপুর থেকে, দুজনকে ঢাকা থেকে এবং একজনকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করেছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, ‘একটি সংঘবদ্ধ চক্র ধনাঢ্য ব্যক্তি, পেশাজীবী, ডাক্তার ও প্রকৌশলীদের টার্গেট করে মেসেজ পাঠিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে আঘাত করে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পুলিশের প্রশংসা করি, কিন্তু তাদের আরও কাজ করা বাকি আছে। আমরা এসব সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রকে নির্মূল করতে চাই।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, চাঁদাবাজেরা রাতারাতি কোটিপতি হতে চান। তারা বিভিন্ন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, দাগি আসামি, গডফাদারদের নামও ব্যবহার করে।
হামলার মূল হোতা হুন্ডি ব্যবসা করত উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই ব্যক্তি ব্যবসায় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তিনি কিছু সন্ত্রাসীকে একত্র করে এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধনাঢ্য ব্যক্তি, পেশাজীবী, ডাক্তার, প্রকৌশলীকে টার্গেট করে চাঁদা আদায় করেন।
চাঁদাবাজির সঙ্গে পুলিশ জড়িত থাকলে, তাদের তালিকাও হচ্ছে
এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজদের নির্মূল করতে চাই। আমরা শুধু চাঁদাবাজদের তালিকা করছি না, চাঁদাবাজির সঙ্গে যদি কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত থাকে, তাদের তালিকাও করছি।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকাটিই এ রকম যে গান, বাজনা, সিনেমা—এসব বহু বছর যাবৎ তাদের মধ্যে প্রায় নিষিদ্ধের মতো। সেখানকার পরিস্থিতি আলাদা। পরিবেশ বিবেচনায়, পরিস্থিতি বিবেচনায়, যেখানে যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, সেটি নিয়েছি।’
ডাক্তার ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের ৫০০টি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। কোনো চিকিৎসক নিজস্ব চেম্বার ও ক্লিনিকে বিশেষ নিরাপত্তাঝুঁকি বোধ করলে পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।
এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের যেকোনো নাগরিক বিদ্যমান আইন অনুযায়ী শর্ত পূরণ সাপেক্ষে শটগান বা পিস্তলের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। কোনো চিকিৎসক যদি নিজের নিরাপত্তায় ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োজন মনে করে আবেদন করেন, তবে সরকারের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) মো. শফিকুল ইসলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান প্রমুখ।
মন্ত্রী পরে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে একই চাঁদাবাজ চক্রের হুমকির শিকার ডা. এ কে এম আমিনুল হককে দেখতে যান।