পরিবারের দাবি হত্যা, আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা নিল পুলিশ

ঝুলন্ত লাশপ্রতীকী ছবি

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার কুনিপাড়ায় জেসমিন আক্তার ওরফে বীথি (২৯) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা যৌতুকের জন্য জেসমিনকে হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছে।

জেসমিনের বাবা মো. ইলিয়াস ব্যাপারীর অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে গলা টিপে হত্যার পর সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় হত্যা মামলা করতে চাইলেও পুলিশ আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হিসেবে অভিযোগটি গ্রহণ করেছে।

তবে পুলিশ বলছে, জেসমিনের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজন হলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হতে পারে।

জেসমিনের পরিবারের সদস্যরা জানান, জেসমিন তাঁর স্বামী আল আমিনের পরিবারের সঙ্গে তেজগাঁওয়ের কুনিপাড়ায় বন্ধু বেকারির গলির একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০১৯ সালে ভালোবেসে আল আমিনকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের কোনো সন্তান নেই। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জেসমিন মা–বাবার বাসায় বেড়াতে গেলে তাঁর ভাশুর মোক্তার হোসেন বাবার কাছ থেকে ছয়–সাত লাখ টাকা এনে দিতে বলেন। জেসমিন এতে রাজি হননি। পরদিন শুক্রবার বিকেলে তিনি স্বামীর বাসায় ফিরে যান।

জেসমিনের বাবা জানান, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে তিনি মেয়েকে দেখতে ওই বাসায় যান। তখন জেসমিনের কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল এবং কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তিনি বিষয়টি জেসমিনের স্বামী আল আমিনকে জানালে আল আমিন এসে তাঁর কাছে থাকা বিকল্প চাবি দিয়ে দরজা খোলেন। এ সময় জেসমিনকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে একটি হাসপাতাল ঘুরে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ইলিয়াস ব্যাপারী প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর জেসমিনকে মারধর করা হয়। তাঁর অভিযোগ, জেসমিনের স্বামী আল আমিন, ভাশুর মোক্তার হোসেন ও ভাশুরের স্ত্রীর যোগসাজশে জেসমিনকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। পরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে দরজা তালাবদ্ধ করে আল আমিন বাসার বাইরে যান।

জেসমিনের বাবা বলেন, ওই ঘটনায় তিনি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় হত্যা মামলা করতে গেলে পুলিশ আত্মহত্যার ঘটনা উল্লেখ করে এজাহার টাইপ করে তাতে তাঁর স্বাক্ষর নেয় এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা গ্রহণ করে। এতে জেসমিনের স্বামী, ভাশুর ও ভাশুরের স্ত্রীকে আসামি করা হয়। পুলিশের টাইপ করা কাগজটি তাঁকে পড়ে শোনানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জেসমিনের বাবার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের জন্য জেসমিনকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছিল। টাকা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, জেসমিনের বাবার অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা ওই মামলার প্রধান আসামি জেসমিনের স্বামী আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জেসমিনের ভাশুর মোক্তার হোসেন ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হতে পারে।