কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ইউরোপে পালানোর চেষ্টা করছিলেন ‘প্রতারক’ ছালাম

অর্থ আত্মসাতের দায়ে যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া হাসান ছালামকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব
ছবি: র‍্যাবের সৌজন্যে

বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে র‍্যাব। হাসান ছালাম নামের ৪১ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে গতকাল সোমবার রাজধানীর মতিঝিল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ইউরোপে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

র‍্যাব বলছে, যৌথ মালিকানায় বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেন হাসান ছালাম। সুপারশপ, জুয়েলারি ব্যবসা, টেলিকম ব্যবসা, ট্রাভেল এজেন্সি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং জমি কেনা-বেচাসহ ১১টি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগে উচ্চ হারে লভ্যাংশের প্রলোভন দেখান তিনি। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের নামে ৮টি বেসরকারি ব্যাংক এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে আরও ৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আর পরিশোধ করেননি।

হাসান ছালামের প্রতারণার বিষয়টি জানাতে আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে র‍্যাব-৩–এর লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার পর কিছুদিন লভ্যাংশ দিলেও পরে সেটি দেওয়া বন্ধ করে দেন। টাকা ফেরত চাইলে পাওনাদারদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয় দেখানো হতো। ঋণের দায় এড়াতে হাসান ছালাম কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং দোকান বিক্রি করে কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে জমি কেনেন।

র‍্যাব-৩–এর কর্মকর্তা আরিফ মহিউদ্দিন বলেন, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে পান্থপথের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বিক্রি করে ডেমরা এলাকায় বন্ধুর বাসায় গা ঢাকা দেন হাসান ছালাম। পলাতক থাকা অবস্থায় তিনি ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

র‍্যাব জানায়, হাসান ছালামের বাড়ি কুমিল্লায়। ২০০৮ সালে তিনি উচ্চ হারে লভ্যাংশ দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। ওই টাকায় তিনি ঢাকার বসুন্ধরা সিটিতে প্রথমে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে জেমস সুপারশপ নামের কথিত রত্নপাথরের ব্যবসা শুরু করেন। পরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে বসুন্ধরা সিটিতে আরও ৪টি দোকান ভাড়া নেন। ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। ২০২০ সালে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।