মাওলানা ফারুকী হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছাল

মাওলানা নূরুল ইসলাম ফারুকীফাইল ছবি

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের নেতা ও চ্যানেল আইয়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। প্রায় এক যুগ আগের এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবদুল করিম প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আজ মামলাটির অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন জানান। বিচারক সেই আবেদন মঞ্জুর করে শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কে এম আবুল কাশেম। একই সঙ্গে অভিযোগ থেকে ১২ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন হাদিসুর রহমান ওরফে সাগর, আবদুল্লাহ আল তাসনিম ওরফে নাহিদ, রফিকুল ইসলাম ওরফে ফারদীন, আবু রায়হান মাহমুদ ওরফে আবদুল হাদী, মাহমুদ ইবনে বাশার ও রতন চৌধুরী ওরফে ইঞ্জিনিয়ার রিপন ওরফে রাকিবুল ইসলাম রিয়াজ। আসামিদের মধ্যে বাশার ও রফিকুল শুরু থেকেই পলাতক। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। হাদিসুর রহমান কারাগারে আছেন এবং অন্য তিন আসামি জামিনে রয়েছেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট সন্ধ্যা সাতটার দিকে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে নুরুল ইসলাম ফারুকীর বাসার কলিং বেল চাপে দুর্বৃত্তরা। দরজা খোলার পর প্রথমে দুজন ড্রয়িংরুমে ঢুকে ফারুকীর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করে। এর কিছুক্ষণ পর আরও ছয়-সাতজন বাসায় ঢোকে। বসার জায়গা কম থাকায় ফারুকীর মামাতো ভাই মারুফ হোসেন ভেতর থেকে চেয়ার আনতে যান। তিনি ফিরে এসে দেখেন, দুর্বৃত্তরা নুরুল ইসলামের মাথায় পিস্তল ও চাপাতি ধরে রেখেছে। এরপর তারা বাসার সবাইকে বেঁধে ফারুকীকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন নিহত ফারুকীর ছেলে ফয়সাল ফারুকী। নুরুল ইসলাম ফারুকী হাইকোর্ট মাজার জামে মসজিদের খতিব ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।